চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার ৬, অস্ত্র জব্দ
চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার ৬, অস্ত্র জব্দ

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রৌফাবাদ এলাকায় চাঞ্চল্যকর মো. হাসান ওরফে রাজু (২৪) হত্যাকাণ্ড এবং শিশু রেশমি আক্তার (১১) গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয় জনকে গ্রেফতার করে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর আড়াইটায় সিএমপিতে এক সংবাদ সম্মেলন করে আসামিদের গ্রেফতারের তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর জোনের উপকমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন– সৈয়দুল করিম (২৭), আবদুল মান্নান (৩৭), ইউনুছ মিয়া (২৪), আয়াতুল্লাহ আলী আদনান (২১), আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে খোকন (৪৮) এবং আজগর আলী (৩৯)।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিবরণ

সংবাদ সম্মেলনে উপকমিশনার আমিরুল ইসলাম জানান, গত ৭ মে রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রৌফাবাদ শহীদ মিনারের পাশে বাঁশবাড়িয়া গলিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। এতে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. হাসান ওরফে রাজু গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয় রেশমি আক্তার নামে এক শিশু। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। এ ঘটনায় নিহত রাজুর মা সকিনা বেগম বাদী হয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

অভিযান ও গ্রেফতার

তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি আব্দুল করিমের নেতৃত্বে একাধিক টিম অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর থানার সুগন্ধা সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া সৈয়দুল করিম নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজুকে গুলি করার কথা স্বীকার করেছে সৈয়দুল করিম। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড তাজা গুলি এবং ঘটনার সময় পরা পোশাক উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে হামলায় ব্যবহৃত চট্ট মেট্রো-থ-১৩-১২৫৭ নম্বরের একটি সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।

পরে ডবলমুরিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিএনজিচালক আব্দুল মান্নানকে (৩৭) গ্রেফতার করা হয়। পরে তার ও প্রধান আসামির দেওয়া তথ্যে রৌফাবাদ ও পাহাড়িকা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইউনুস মিয়া (২৪) ও আয়াতুল্লাহ আলী আদনান (২১) নামে আরও দুই সহযোগীকে আটক করা হয়।

এ ছাড়া চান্দগাঁও থানাধীন কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে খোকন (৪৮) ও আজগর আলী (৩৯) নামে আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আসামিদের পূর্ব ইতিহাস

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার সৈয়দুল করিমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ডাকাতির দুটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে খোকনের বিরুদ্ধে চুরি, হত্যাচেষ্টা ও মারামারিসহ ছয়টি মামলা এবং আজগর আলীর বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা রয়েছে।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতার এবং আরও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।