সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ এলাকার জেবদীন অঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নিহতদের পরিচয়
নিহতরা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪৮) এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মো. আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. নাহিদুল ইসলাম নাহিদ (২২)।
শফিকুল ইসলামের মা অজয়া খাতুন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, 'শফিকুল ছিল পরিবারের বড় ও একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। তার তিন বোন বিয়ে হয়েছে। সে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি লেবাননে যায়। নাহিদও তার সাথে গিয়েছিল। জেবদীনে নাহিদ রাখালের কাজ করত আর শফিকুল বেকারিতে কাজ করত। সোমবার বিকেলে এলাকায় ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় তারা ভ্যানে করে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছিল। ড্রোন হামলায় তারা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। সন্ধ্যায় আমরা তাদের মৃত্যুর খবর পাই।'
পরিবারের দুর্দশা
শফিকুলের বাবা আফসার আলী বলেন, 'শফিকুল বিদেশ যাওয়ার জন্য বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা ধার নিয়েছিল। লেবাননে যাওয়ার পর প্রায় এক মাস আগে সে ৪০ হাজার টাকা পাঠিয়েছিল। তার দুই মেয়ে আছে। এখন আমাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে আমরা কী করব? এত বড় ঋণ কীভাবে শোধ করব?'
নাহিদুল ইসলামের মা নুরুন্নাহার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, 'নাহিদ ও শফিকুল একসঙ্গে লেবাননে গিয়েছিল। নাহিদ দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়। তার ছোট ভাই নাফিজের বয়স ১২ বছর। আশাশুনির দারগাপুর কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সময় নাহিদের সাথে শফিকুলের পরিচয় হয়। পরে দুজনেই ধার করা টাকা নিয়ে লেবাননে যায়। তারা লেবাননের একই এলাকায় কাজ করত এবং একসঙ্গেই মারা গেছে। আমাদের জানানো হয়েছে যে তাদের মরদেহ নাবাতিহের নাবিহ বেরি হাসপাতালে রাখা হয়েছে।'
নাহিদের খালা রোজিনা খাতুন বলেন, 'নাহিদ বিদেশ যাওয়ার আগে ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিল। সে বাড়িতে মাত্র এক মাস টাকা পাঠাতে পেরেছিল এবং কোনো ঋণ শোধ করতে পারেনি। তার পরিবার কীভাবে এত বড় অঙ্কের টাকা শোধ করবে তা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।'
সরকারি উদ্যোগ
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) বিষ্ণুপদ পাল ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, 'বিষয়টি দেখতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) এলাকায় পাঠানো হয়েছে। পরিবারগুলো আবেদন করলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে।'



