ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের জট যেন আরও পাকিয়ে যাচ্ছে। বুয়েনস এইরেসের আদালতে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে। সেখানে গতকাল সাক্ষ্য দিয়েছেন তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মনোবিদ কার্লোস দিয়াজ। তাঁর দাবি, ম্যারাডোনা বাইপোলার ডিজঅর্ডার ও নার্সিসিজমে ভুগছিলেন।
বাইপোলার ডিজঅর্ডার ও নার্সিসিজম কী?
দীর্ঘ সময় ধরে একজন ব্যক্তির মুডের, আবেগের বা মানসিক অবস্থার বিপরীতমুখী পরিবর্তন ঘটতে থাকলে তাকে বাইপোলার ডিজঅর্ডার বলে বর্ণনা করে থাকেন চিকিৎসকেরা। অন্যদিকে নার্সিসিজম হলো অন্য কারও বা কোনো কিছুর প্রতি মনোযোগ না দিয়ে নিজের প্রতি নিজেই মুগ্ধ হয়ে থাকার একটি মানসিক প্রবণতা।
মনোবিদ কার্লোস দিয়াজের সাক্ষ্য
৩৪ বছর বয়সী মনোবিদ কার্লোস দিয়াজ ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত সাতজনের একজন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ম্যারাডোনার চিকিৎসায় ভুল ওষুধ প্রয়োগ করেছেন। তবে আদালতে দিয়াজ বলেন, ‘ডিয়েগো বাইপোলার ডিজঅর্ডার ও নার্সিসিজমে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি ফুটবলজাদু দেখিয়ে গোটা দেশকে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে দিতে পারতেন, কিন্তু এক গ্লাস অ্যালকোহল তাঁকে মাটিতে নামিয়ে আনার জন্য যথেষ্ট ছিল।’
আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন ম্যারাডোনার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মনোবিদ কার্লোস দিয়াজ। বুয়েনস এইরেসের আদালতে দিয়াজ জানান, মৃত্যুর ঠিক ২৯ দিন আগে, অর্থাৎ ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর তিনি প্রথম ম্যারাডোনার মুখোমুখি হন। সেই সময়ের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘তাঁকে প্রথম দেখেই আমি বড়সড় ধাক্কা খেয়েছিলাম। তাঁকে দেখে আমার নিজের বাবার কথা মনে পড়ে গিয়েছিল। আমার বাবাও অ্যালকোহলে আসক্ত ছিলেন এবং ম্যারাডোনার সঙ্গে আমার দেখা হওয়ার কয়েক মাস আগেই মারা গিয়েছিলেন।’ দিয়াজ জানান, তিনি যখন প্রথম দেখা করতে যান, ম্যারাডোনা তখন সোফায় বসে ওয়াইন পান করছিলেন।
চিকিৎসা পরিকল্পনা ও মাদকমুক্ত থাকার প্রমাণ
আদালতে দিয়াজ দাবি করেন, ম্যারাডোনা নিজের জীবনযাত্রা বদলে ফেলতে চেয়েছিলেন। তাই তাঁর জন্য এমন এক চিকিৎসার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে অ্যালকোহল পুরোপুরি নিষিদ্ধ ছিল। দিয়াজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগের ২৩ দিন ম্যারাডোনা কোনো ড্রাগ বা মাদক নেননি। টক্সিকোলজি রিপোর্টও নাকি সেই কথাই বলছে।
নিউরোসার্জনের বক্তব্য
একই দিনে আদালতে সাক্ষ্য দেন আরেক অভিযুক্ত নিউরোসার্জন লিওপোল্ডো লুকে। তাঁর মতে, ম্যারাডোনার জন্য বাড়িতে যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তা যথাযথ ছিল। এটাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ করার কোনো পরিকল্পনা তাঁদের ছিল না।
ম্যারাডোনার মৃত্যু ও বিচারিক প্রক্রিয়া
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে ৬০ বছর বয়সে মারা যান ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার। এর কয়েক দিন আগেই তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুতে কি চিকিৎসকদের গাফিলতি ছিল? এ প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছেন আদালত। বোকা জুনিয়র্স, বার্সেলোনা ও নাপোলির হয়ে ক্লাব ফুটবল মাতানো এই কিংবদন্তি প্রায় একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জেতান।



