বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম স্থানে উঠে এসেছে ঢাকা। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের বাতাসের মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বায়ুদূষণের মাত্রা কত?
আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা স্কোর ছিল ২৫৪। এ স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই স্কোরের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম স্থান দখল করেছে।
অন্যান্য দূষিত শহর
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি, যার স্কোর ২২৭। তৃতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর (২১৪) এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা (১৮১)। পঞ্চম স্থানে রয়েছে চীনের বেইজিং (১৭৯)।
বায়ুদূষণের উৎস
ঢাকায় বায়ুদূষণের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজ এবং শিল্পকারখানা। বিশেষ করে শীতকালে বায়ুদূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি
বায়ুদূষণের কারণে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ফুসফুসের ক্যানসার। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং যাদের আগে থেকে শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য বায়ুদূষণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
সরকারের পদক্ষেপ
বায়ুদূষণ কমাতে সরকার নানারকম পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইটভাটা বন্ধ, যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো। তবে এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
পরিবেশবিদরা বলছেন, বায়ুদূষণ কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। ইটভাটার পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিল্পকারখানায় দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।
ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা কমাতে জনসচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মাস্ক ব্যবহার, বায়ুশোধনকারী যন্ত্র ব্যবহার এবং গাছ লাগানো ব্যক্তিগত পর্যায়ে কিছু পদক্ষেপ হতে পারে।



