রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ হেরোইন উদ্ধারের মামলায় মো. উজ্জ্বল আলী নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে; অনাদায়ে আরও দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার বিবরণ
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর রাত প্রায় ৪টা ২০ মিনিটে হাতিরঝিল থানাধীন মধুবাগ এলাকার তিশা কুঠি বাসার সামনে অভিযান চালায় ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে মো. উজ্জ্বল আলীকে আটক করা হয়।
পরে তার দেহ তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার দেখানো বাসা থেকে ১২টি প্লাস্টিক প্যাকেটে রাখা ১ কেজি ২০০ গ্রাম হেরোইন এবং ২৫টি প্যাকেটে থাকা ১ হাজার ৫০০ গ্রাম হেরোইনসদৃশ পাউডার উদ্ধার করা হয়।
আইনি প্রক্রিয়া
এ ঘটনায় ডিবির এসআই (নিরস্ত্র) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন হাতিরঝিল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার ৮ (গ) উপধারায় মামলা করেন। পরে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। জব্দ করা আলামতের বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
মামলায় অভিযোগ গঠনের পর বিচার চলাকালে চার্জশিটভুক্ত মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত ১১ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এরপর আদালত ২০ মে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণ
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, আসামির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ হেরোইন ও হেরোইনসদৃশ পাউডার উদ্ধার করা হয়েছে, যা মাদক পাচার ও অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে সমাজে ভয়াবহ প্রভাব ফেলে এবং সামাজিক অবক্ষয় ঘটায়। আসামির পক্ষ থেকে শাস্তি হ্রাসের মতো কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ উপস্থাপন করা হয়নি।
রায়ে আরও বলা হয়, বিচার ও তদন্ত চলাকালে আসামি হাজতে যে সময় কাটিয়েছেন, তা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫-এ ধারা অনুযায়ী মূল সাজা থেকে বাদ যাবে। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত আপিলের সময়সীমা শেষে আইন অনুযায়ী ধ্বংস করার নির্দেশ দেন আদালত।
এই রায়ের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে আদালত। মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য এটি একটি কঠোর সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন আইন বিশ্লেষকরা।



