শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে অবস্থিত সাজেদা জব্বার হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে আবু বক্কর (১০) নামে এক রোগীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ডা. তানজীম আনোয়ার চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা আলামিন ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে জেলা সিভিল সার্জন অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগীর পরিবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার দাবি করেছে।
অভিযোগের বিবরণ
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সখিপুর বাজারে অবস্থিত ঢাকা থেকে আগত ডা. আনোয়ার হোসাইন চৌধুরী সাজেদা জব্বার হাসপাতালে আবু বক্করের ডান হাত ভাঙার চিকিৎসা করেন। প্রথমে হাতটি এক্স-রে ও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরে হাতটি প্লাস্টার করে দেওয়া হয়। এরপর পরপর দুইবার ওই হাসপাতালে এক্স-রে করে চিকিৎসা চালানো হয়।
সর্বশেষ ১৭ ফেব্রুয়ারি রোগী দেখে ডাক্তার জানান, হাতের জোড়া লেগে গেছে এবং আর কোনো সমস্যা নেই। তবে বাড়িতে গিয়ে দুই দিন পর দেখা যায়, হাতটি আগের মতোই বাঁকা রয়েছে এবং আবু বক্করের হাতে প্রচণ্ড ব্যথা। তাই তার বাবা তাকে অন্য একজন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা করে চিকিৎসক জানান, পূর্ববর্তী ভুল চিকিৎসার কারণে হাতটি অপারেশন করতে হবে।
পরিবারের আর্থিক সংকট
পরে কষ্ট করে সুদে ঋণ নিয়ে ৬০ হাজার টাকা জোগাড় করে ঢাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে হাতের অপারেশন করানো হয়। তবে হাসপাতালের খরচ বহন করতে না পারায় রোগীকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসা শেষে রোগীকে বাড়িতে নেওয়া হয়।
চিকিৎসকের বক্তব্য
এ বিষয়ে ডা. আনোয়ার হোসাইন চৌধুরী বলেন, তিনি ভালোভাবে চিকিৎসা দিয়েছেন। তবে রোগী সামনাসামনি এলে বিষয়টি পরিষ্কার বলতে পারবেন বলে জানান।
হাসপাতালের অবস্থান
সাজেদা জব্বার হাসপাতালের উপ-পরিচালক মাহাবুবুর রহমান বলেন, তারা এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি নন।
সিভিল সার্জনের প্রতিক্রিয়া
শরীয়তপুর জেলা সিভিল সার্জন রেহান উদ্দিন বলেন, তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে। আইনানুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



