ফরিদপুরের ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে গত চার দিনে ছয়জন ট্রাক চালক ও হেলপার নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোর সাড়ে ৫টায় ঢাকামুখী লেনে আতাদি ফ্লাইওভারে গাছভর্তি ট্রাকে মাছবাহী ট্রাকের ধাক্কায় আরও দুইজন প্রাণ হারান। নিহতরা হলেন যশোর সদরের চাচড়া গ্রামের মো. শামিম (৩০) ও অজ্ঞাত এক হেলপার (২৮)।
দুর্ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ধীরগতিতে চলা গাছের চারাবোঝাই ট্রাককে পেছন থেকে দ্রুতগতির মাছবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মাছের ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে ঘটনাস্থলেই চালক ও হেলপার নিহত হন। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার এসআই সোহেল খান জানান, লাশ উদ্ধার করে দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
চার দিনের মৃত্যুর তালিকা
গত ১৪ মে লালমনিরহাটের পিকআপচালক প্রবীর রায় (৩৬) ও অজ্ঞাত হেলপার (১৮), ১৬ মে যশোরের হেলপার ইউসুফ আলী (৫০) ও তার ছেলে চালক ইয়াকুব আলী (২৬), এবং ১৮ মে মাছবাহী ট্রাকের চালক শামিম (৩০) ও অজ্ঞাত হেলপার (২৮) নিহত হন। সবাই ট্রাকের চালক ও হেলপার।
দুর্ঘটনার কারণ
হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের মতে, এক্সপ্রেসওয়েতে চাকা পাংচার হওয়া গাড়ি মেরামত করতে গিয়ে এবং ঘুম চোখে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটছে। ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মিয়া বলেন, 'সব দুর্ঘটনা রাতে ঘটছে। চালকেরা ঘুমের ঝিমটিতে দাঁড়ানো গাড়িকেও চলন্ত মনে করে পেছনে ধাক্কা দেয়। এটি চালকদের অসাবধানতা। একমাত্র সতর্কতা ছাড়া দুর্ঘটনা রোধ কঠিন।'
সচেতন মহলের আহ্বান
সচেতন মহল হাইওয়ে পুলিশের প্রতি নষ্ট গাড়ি মেরামতের বিষয়টি খেয়াল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এক্সপ্রেসওয়ের দ্রুতগতির স্থানগুলোতে পুলিশি টহল জোরদার ও বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়।



