নারীরা রোজ রাত ১১টার আগে কেন ঘুমাতে যাবেন?
নারীরা রোজ রাত ১১টার আগে কেন ঘুমাতে যাবেন?

সুস্থ থাকতে দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম জরুরি, তবে নারীদের জন্য ঘুমের প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি। গবেষণা বলছে, পুরুষের তুলনায় নারীদের কমপক্ষে ১১ মিনিট বেশি ঘুমানো প্রয়োজন। শুধু মাল্টিটাস্কিংয়ের কারণে নয়, বরং হরমোনাল স্বাস্থ্যের জন্যই নারীদের বেশি ঘুম দরকার।

কেন রাত ১১টার আগে ঘুমানো জরুরি?

শরীরের জৈবিক ঘড়ির ছন্দ বজায় রাখতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ওঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন রাত ১১টার আগে ঘুমালে শরীরের সার্কাডিয়ান রিদমের সাথে সামঞ্জস্য বজায় থাকে, যা মেলাটোনিনসহ একাধিক হরমোনের সঠিক নিঃসরণ নিশ্চিত করে। এর ফলে বিপাক হার ও প্রজনন স্বাস্থ্যে কোনো সমস্যা তৈরি হয় না।

ঘুমের সময় ঠিক রাখার গুরুত্ব

রাত ১১টার আগেই যে নারীকে ঘুমাতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে ঘুমের সময় ঠিক রাখা জরুরি। আপনি যদি প্রতিদিন রাত ১২টায় ঘুমাতে যান, সেই রুটিন বজায় রাখার চেষ্টা করুন। দিন শেষ হওয়ার সাথে সাথে যত তাড়াতাড়ি ঘুমানো যায়, স্বাস্থ্যের জন্য তত ভালো। 'স্লিপ হাইজিন' বজায় রাখার চেষ্টা করুন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ নারী অনিদ্রায় ভোগেন। পুরুষের তুলনায় নারীরা একাধিক কাজ করেন, কিন্তু সবচেয়ে কম বিশ্রাম নেন, যা সরাসরি তাদের হরমোনের ভারসাম্যের ওপর প্রভাব ফেলে।

ঘুমের অভাব ও হরমোনের প্রভাব

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ মহিমা কাক নাগপাল জানিয়েছেন, নারীর হরমোনের ভারসাম্য, বিপাকীয় স্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ঘুমের ভূমিকা অপরিসীম। হরমোন নিঃসরণ শরীরের জৈবিক ঘড়ির সাথে জড়িত। রাত জাগার অভ্যাস ডিম্বস্ফোটনে সমস্যা তৈরি করতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, ইনস্যুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়, ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয় এবং প্রজননসংক্রান্ত নানা সমস্যা দেখা দেয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডা. নাগপাল নারীদের রাত ১১টার আগে ঘুমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। ঘুমের অভাবে মেলাটোনিন, কর্টিসল, লুটিনাইজিং হরমোন, ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন, ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মতো একাধিক হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই নারীদের জন্য পর্যাপ্ত ও সময়মতো ঘুম অপরিহার্য।