আত্মহত্যা প্রতিরোধে সহমর্মিতা ও পেশাদার সহায়তা জরুরি: অধ্যাপক মোহিত কামাল
আত্মহত্যা প্রতিরোধে সহমর্মিতা ও পেশাদার সহায়তা জরুরি

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সহমর্মিতা ও পেশাদার সহায়তা জরুরি: অধ্যাপক মোহিত কামাল

প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি নিয়মিত আয়োজন মাদকবিরোধী পরামর্শ সভায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মোহিত কামাল আত্মহত্যার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। ২০২৩ সালের ২০ মে শনিবার ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। ট্রাস্ট আয়োজিত ১৬৮তম এ সভায় মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর দেন বিজ্ঞ আলোচকেরা।

আত্মহত্যা: মানসিক রোগের চরম পরিণতি

অধ্যাপক মোহিত কামাল সভায় বলেন, আত্মহত্যা হলো বিভিন্ন মানসিক রোগের একটি চরম পরিণতি। তিনি উল্লেখ করেন, বিষণ্নতা, উদ্বেগ বা অন্যান্য মানসিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি কয়েকটি সচেতনতামূলক পদক্ষেপের উপর জোর দেন।

প্রধান পদক্ষেপগুলো

  • সহমর্মিতা: বিষণ্নতায় ভোগা ব্যক্তির কথা বিচার না করে (Non-judgmental) মন দিয়ে শোনা। এটি তাদের মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
  • পেশাদার সহায়তা: কাউন্সেলিং বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে উৎসাহিত করা। সময়মতো চিকিৎসা আত্মহত্যা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • ট্যাবুর অবসান: মানসিক রোগ নিয়ে লজ্জা বা জড়তা কাটিয়ে খোলাখুলি কথা বলার পরিবেশ তৈরি করা। সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি এই বিষয়ে অগ্রগতি আনতে পারে।

দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা

চিকিৎসক মোহিত কামাল আরও বলেন, কারও মধ্যে যদি আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত তাঁদের চিকিৎসার আওতায় আনা উচিত। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, প্রাথমিক পর্যায়ে হস্তক্ষেপ ও সমর্থন অনেক জীবন বাঁচাতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য সেবার প্রাপ্যতা ও গুণগত মান উন্নয়নের উপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সভার প্রেক্ষাপট

প্রথম আলো ট্রাস্টের এই মাদকবিরোধী পরামর্শ সভা একটি নিয়মিত কর্মসূচি হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। এটি সমাজের বিভিন্ন স্তরে মাদক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে। সভায় অংশগ্রহণকারীরা মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সরাসরি পরামর্শ পান।

অধ্যাপক মোহিত কামালের এই বক্তব্য মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সহমর্মিতা ও পেশাদার সহায়তার মাধ্যমে এই সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।