শিশুদের অমনোযোগিতা: ডা. জোবায়ের মিয়ার পরামর্শে অভিভাবকদের করণীয়
শিশুদের অমনোযোগিতা: ডা. জোবায়ের মিয়ার পরামর্শ

শিশুদের অমনোযোগিতা: ডা. জোবায়ের মিয়ার পরামর্শে অভিভাবকদের করণীয়

প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি বিশেষ আয়োজনের আওতায় গত ০৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলোর কার্যালয়ে ১৭৫তম অনলাইন পরামর্শ সহায়তা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই বিনা মূল্যের মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক (সাইকিয়াট্রি) ডা. জোবায়ের মিয়া উপস্থিত থেকে অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এবারের আলোচনার মূল বিষয় ছিল 'অমনোযোগী সন্তান: অভিভাবকের করণীয়'

অমনোযোগিতার কারণ ও প্রযুক্তির প্রভাব

ডা. জোবায়ের মিয়া তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে শিশুদের অমনোযোগিতার পেছনে প্রযুক্তির অত্যধিক ব্যবহার একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, 'আমরা যখন ৯০-এর দশকে শিশু বা কিশোর ছিলাম, তখন আমাদের মনোযোগের ঘাটতি ছিল বটে, কিন্তু তা সীমিত ছিল। যেমন, সাদা-কালো টেলিভিশনে সপ্তাহে একবার সিনেমা দেখা বা গ্রাম্য ফুটবল খেলা দেখার জন্য সময় ব্যয় করা। কিন্তু বর্তমানে শিশুরা স্কুল বা কলেজ থেকে ফিরে ঘরে বসে ট্যাব, মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনে নিমগ্ন থাকে, যা তাদের পড়াশোনা ও সামাজিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।'

মনোযোগের ঘাটতি চিহ্নিতকরণ ও সমাধান

ডা. জোবায়ের মিয়া অভিভাবকদের পরামর্শ দেন যে, শিশুদের অমনোযোগিতার সঠিক কারণ প্রথমে চিহ্নিত করতে হবে। তিনি বলেন, 'বাচ্চা অমনোযোগী কেন—সে কি ডিভাইসে আসক্ত, নাকি বন্ধু-বান্ধবের সাথে বেশি সময় কাটাচ্ছে, নাকি পড়ার বিষয়টি তার পছন্দের নয়? আনন্দময় পরিবেশের অভাব, অশান্তি বা ডিসিপ্লিনের ঘাটতিও অমনোযোগিতার কারণ হতে পারে।' তিনি আরও যোগ করেন যে, শিশুরা দেখে দেখে শেখে এবং যদি তারা আনন্দময় পরিবেশ পায়, তাহলে তারা স্বাভাবিকভাবে মনোযোগ দিতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডিসিপ্লিন ও সময় ব্যবস্থাপনা

ডা. জোবায়ের মিয়া অভিভাবকদের জন্য কিছু কার্যকরী পদক্ষেপের পরামর্শ দেন:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • সময় সেট করা: শিশুদের জন্য ডিভাইস ব্যবহার ও পড়াশোনার সময় সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করুন।
  • আনন্দময় পরিবেশ তৈরি: পড়ার বিষয়গুলোকে আকর্ষণীয় ও আনন্দদায়ক করে তুলুন, যাতে শিশুদের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
  • ডিসিপ্লিন বজায় রাখা: ঘরে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করুন, যা শিশুদের মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করবে।
  • প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার: শিশুদের ডিভাইস আসক্তি কমাতে উৎসাহিত করুন এবং বাইরের ক্রীড়া বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করুন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতের তুলনায় বর্তমান সময়ে শিশুদের মনোযোগের ঘাটতি বেশি দেখা যাচ্ছে, কিন্তু সঠিক পদ্ধতি ও সহযোগিতার মাধ্যমে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠা সম্ভব। এই পরামর্শ সভাটি প্রথম আলো ট্রাস্টের মাদকবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়, যা সামগ্রিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।