শিশুদের স্কুল ভীতি: মনোবিদ ডা. রাহেনুল ইসলামের বিশেষ পরামর্শ
প্রথম আলো ট্রাস্টের আয়োজনে অনলাইনে মাদকবিরোধী পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি এই সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মনোবিদ ডা. রাহেনুল ইসলাম। তিনি 'শিশুদের স্কুল ভীতি: অভিভাবকের করণীয়' বিষয়ে গভীরভাবে আলোকপাত করেন।
শিশুদের স্কুল ভীতির মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর অনেক শিশুই কান্নাকাটি করে বা বাবা-মায়ের আঁচল ছাড়তে চায় না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবককে দীর্ঘক্ষণ স্কুলের গেটে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। শিশুদের এই আচরণ দেখে অনেক বাবা-মা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। তবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রাহেনুল ইসলাম এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলেন, 'শুরুর দিকে এই ভয় পাওয়া মোটেও অস্বাভাবিক নয়, বরং এটি একটি সুস্থ মানসিক বিকাশের লক্ষণ।'
তিনি শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জানান, 'একজন শিশুর পৃথিবী শুরু হয় তার কাছের মানুষের মাধ্যমে। যাদের সাথে তার গভীর আবেগীয় বন্ধন বা অ্যাটাচমেন্ট থাকে, তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়াটা শিশুর কাছে নিরাপত্তাহীনতার মতো। এই মানুষগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ব্যাপারটা তার জন্য অনেক ভয়ের ব্যাপার। জীবনের প্রথম স্কুলের দিনটাতে শিশুটা ভয় পাবে, একটু আঁকড়ে ধরবে—এটা কিন্তু আমরা বলব স্বাভাবিক আচরণ।'
অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
ডা. রাহেনুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, 'বরং উল্টোটা যদি ঘটে যে শিশুটি একেবারেই ভয় পাচ্ছে না, কাছের মানুষকে মিস করছে না, তাহলে বলব বরং এটাই ভয়ের ব্যাপার। সুতরাং শিশুর মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো ভালোভাবে জানা ও বোঝা দরকার আছে।' তিনি অভিভাবকদের জন্য কিছু মূল্যবান পরামর্শ দেন:
- শিশুর আবেগীয় বন্ধন বা অ্যাটাচমেন্টকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করুন।
- শিশুকে ধীরে ধীরে স্কুলের পরিবেশের সাথে অভ্যস্ত হতে সাহায্য করুন।
- ভয়ের বিষয়গুলো নিয়ে শিশুর সাথে খোলামেলা আলোচনা করুন।
- স্কুলের শিক্ষক ও কর্মীদের সাথে সহযোগিতা বাড়ান।
এই আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, শিশুদের স্কুল ভীতি একটি সাধারণ মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া। অভিভাবকদের উচিত ধৈর্য ধরে শিশুকে সহযোগিতা করা এবং তাদের মানসিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা। প্রথম আলো ট্রাস্টের এই আয়োজন শিশু ও অভিভাবকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করছে।



