ঋণগ্রস্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা: ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলেন বিকাশ কর্মকার
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বিকাশ কর্মকার (৪৭) নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী। রোববার দিনগত রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজশাহী থেকে গোবড়াগামী টুঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনে উপজেলার সাতৈর রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি ও আর্থিক সংকট
বিকাশ কর্মকার ছিলেন সাতৈর ইউনিয়নের বড়নগর গ্রামের মৃত নিতাই কর্মকারের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, তিনি সাতৈর বাজারের একজন স্বর্ণকার ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে তার জীবন দারুণ দুঃখজনক ঘটনায় ভরা। পাঁচ বছর আগে তার স্ত্রী লক্ষী রানী কর্মকার অসুস্থতায় মারা যান। তাদের একমাত্র ছেলে বিশাল কর্মকার নানাবাড়িতে থাকেন, যা পরিবারিক বন্ধনকে আরও দুর্বল করে তোলে।
প্রায় দুবছর আগেও বিকাশ কর্মকার সাতৈর বাজারে একজন প্রতিষ্ঠিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী হিসেবে সফল ছিলেন। কিন্তু ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ায় তিনি ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এবং জীবিকার তাগিদে ঢাকায় চাকরি নেন। এই পরিবর্তন তার জীবনে গভীর হতাশা ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।
পৈতৃক জমি বিক্রিতে বাধা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
এক সপ্তাহ আগে তিনি পৈতৃক জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে বাড়িতে আসেন। কিন্তু ভাই ও অন্যান্য স্বজনদের তীব্র বাধার মুখে তিনি জমি বিক্রি করতে ব্যর্থ হন। ধারণা করা হচ্ছে, আর্থিক সংকট, পারিবারিক সমস্যা এবং এই ব্যর্থতা তাকে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে দেয়। স্থানীয় নাছিম ফকির জানান, বিকাশের পকেট থেকে তার ভোটার আইডি কার্ড এবং মৃত স্ত্রী ও ছেলের ছবি উদ্ধার করা হয়েছে, যা তার মানসিক যন্ত্রণার ইঙ্গিত দেয়।
সাতৈর রেলওয়ের কর্মচারী রাসেল ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, "বিকাশ কর্মকার আমার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ট্রেন আসার শব্দে আমি সরে যাই। কিন্তু তিনি হঠাৎ করেই ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন।" এই দৃশ্য প্রত্যক্ষকারীদের জন্য ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ছিল।
পুলিশের তদন্ত ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
বোয়ালমারী থানার ওসি আনোয়ার হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং রেলপুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, তবে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে। স্থানীয়রা বিকাশ কর্মকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন।
এই ঘটনা সমাজে আর্থিক চাপ, ঋণগ্রস্ততা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে সহায়তা ও কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।



