মনোরোগ বিশেষজ্ঞের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ: সন্তান লালনপালনে সময় ও নির্দিষ্ট রুটিনের ভূমিকা
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সরদার আতিক সম্প্রতি একটি মাদকবিরোধী পরামর্শ সভায় অভিভাবকদের জন্য মূল্যবান দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। ২০২৩ সালের ২০ মে, শনিবার, প্রথম আলো ট্রাস্টের আয়োজনে ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ১৬৮তম মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভায় তিনি তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এই আয়োজনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন বিজ্ঞ আলোচকরা।
সন্তানকে উপদেশ না দিয়ে সময় দেওয়ার আহ্বান
ডা. সরদার আতিক তার বক্তব্যে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সন্তানকে উপদেশ দেওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী সময় দেওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন যে, সন্তানের জন্য নির্ধারিত সময়ে কোনো প্রকার উপদেশ বা পরামর্শ দেওয়া যাবে না। বরং এই সময়টুকু কেবলমাত্র তাদের কথা শোনার জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে। এ পদ্ধতির মাধ্যমে সন্তানেরা তাদের প্রয়োজনীয় কথা বা মনের গভীরে জমে থাকা অনুভূতিগুলো মা-বাবার কাছে নির্দ্বিধায় ও স্বাধীনভাবে প্রকাশ করার সুযোগ পাবে।
সুনির্দিষ্ট রুটিন তৈরির গুরুত্ব
এই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আরও পরামর্শ দিয়েছেন যে, সন্তানের প্রতিদিনের রুটিন নিয়ে অস্পষ্টতা না রেখে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া অভিভাবকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, শিশু কতক্ষণ খেলাধুলা করবে, কতক্ষণ মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করবে এবং কতক্ষণ পড়াশোনায় ব্যয় করবে— এই বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডা. আতিকের মতে, এই ধরনের সুনির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করা শুধুমাত্র সময় ব্যবস্থাপনার জন্যই নয়, বরং এটি শিশুর মানসিক বিকাশ ও সুস্থতা রক্ষায়ও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সন্তানের সাথে গুণগত সময় কাটানো এবং তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে স্পষ্টতা বজায় রাখা মাদকাসক্তি ও অন্যান্য নেতিবাচক প্রবণতা প্রতিরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ হতে পারে।
এই সভাটি প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি নিয়মিত আয়োজন হিসেবে পরিচিত, যা মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে জনসাধারণকে শিক্ষিত করার লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হয়। ডা. সরদার আতিকের এই পরামর্শগুলি অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে, যা সন্তান লালনপালনে সময়ের গুরুত্ব এবং সংগঠিত রুটিনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।



