মনোবিদ ডা. রাহেনুল ইসলামের স্কুল নির্বাচন ও অভিভাবক দায়িত্ব বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
প্রথম আলো ট্রাস্টের আয়োজনে সম্প্রতি একটি মাদকবিরোধী অনলাইন পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি তারিখে অনুষ্ঠিত এই ভার্চুয়াল সভার মূল আলোচক ছিলেন কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মনোবিদ ডা. রাহেনুল ইসলাম। তিনি 'শিশুদের স্কুল ভীতি: অভিভাবকের করণীয়' শীর্ষক বিষয়ের ওপর বিস্তারিত আলোচনা উপস্থাপন করেন।
স্কুল নির্বাচনে অভিভাবকের সচেতনতা
ডা. রাহেনুল ইসলাম তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, 'স্কুল কিন্তু কোচিং সেন্টারের কোনো বিকল্প নয়'। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে স্কুল প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র পাঠ্যবিষয়ই শেখে না, বরং আদব-কায়দা, নেতৃত্বের গুণাবলী, দলগত কাজে অংশগ্রহণ এবং মৌলিক মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের সুযোগ লাভ করে।
তবে মনোবিদ ইসলাম একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দেন: 'অনেক সময় দেখা যায়, স্কুলে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে যে স্কুলটা মানহীন। যেখানে প্রশিক্ষিত শিক্ষক নেই, কাঠামোগত ঘাটতি আছে, নজরদারির ঘাটতি আছে'।
অভিভাবকের দায়িত্ব ও করণীয়
ডা. রাহেনুল ইসলাম অভিভাবকদের জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট পরামর্শ প্রদান করেন:
- প্রথমত, এমন স্কুল নির্বাচন করা উচিত যেখানে প্রশিক্ষিত ও যোগ্য শিক্ষক কর্মরত আছেন।
- দ্বিতীয়ত, স্কুলের শিক্ষাগত ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
- তৃতীয়ত, শিশুর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্কুলের নজরদারি ব্যবস্থা যাচাই করা জরুরি।
তিনি বিশেষভাবে সতর্ক করেন: 'যদি কোনো কারণে শিশুটি সেখানে অপব্যবহারের শিকার হয়, এর দায় কিন্তু স্কুলের পাশাপাশি অভিভাবক হিসেবে আপনি এড়াতে পারবেন না'। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি অভিভাবকদের সচেতনতা ও সক্রিয় ভূমিকার উপর জোর দেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ
মনোবিদ ইসলামের মতে, একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো থাকা আবশ্যক:
- প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দ
- পর্যাপ্ত শিক্ষাগত উপকরণ ও অবকাঠামো
- কার্যকর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
- শিশুবান্ধব শিক্ষা পরিবেশ
- সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব বিকাশের সুযোগ
এই অনলাইন সভাটি প্রথম আলো ট্রাস্টের মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়েছিল। ডা. রাহেনুল ইসলামের এই মূল্যবান পরামর্শগুলো শিশু শিক্ষা, স্কুল নির্বাচন এবং অভিভাবক দায়িত্ব সম্পর্কে সমাজের বিভিন্ন স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



