ডেমরায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যায় শোকের ছায়া
রাজধানীর ডেমরা থানার মুসলিমনগর এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ওয়ালিদ হাসান চৌধুরী নামে এক কিশোর এসএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ বুধবার সকালে তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, পড়ালেখা নিয়ে বাবা কর্তৃক বকাঝকা ও চাপের কারণে অভিমানে ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে মুসলিমনগর এলাকার একটি বাসা থেকে ওয়ালিদ হাসান চৌধুরীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওয়ালিদ ডেমরা শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন এবং আগামী ২১ এপ্রিল থেকে তার পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল।
ছেলের অকাল মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বাবা আবুল হাসান চৌধুরী। ঢামেক হাসপাতালে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ওয়ালিদ কিছুটা জেদি প্রকৃতির ছিল, তবে পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ কম ছিল বলে মনে হতো। দুই মাস আগে ছেলের আবদার মেটাতে তিনি একটি মোটরসাইকেলও কিনে দিয়েছিলেন। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষা ঘনিয়ে আসায় ওয়ালিদ ঠিকমতো পড়াশোনা না করায় তিনি প্রায়ই তাকে বকাঝকা করতেন।
পরিবারের বর্ণনায় শেষ রাতের ঘটনা
আবুল হাসান চৌধুরী আরও উল্লেখ করেন, গত মঙ্গলবার রাতেও পড়াশোনার বিষয়ে ছেলেকে তিনি বকাঝকা করেছিলেন। এরপর বুধবার সকালে অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করার পরও ওয়ালিদ তার ঘরের দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ জাগে। পরে জোর করে দরজা ভেঙে তারা ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান যে, ওয়ালিদ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে একটি ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক ঘটনার প্রাথমিক তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করেছে, তবে আনুষ্ঠানিক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।
শিক্ষা ও মানসিক চাপ নিয়ে সমাজের প্রতিফলন
এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের ওপর পড়াশোনার চাপ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের গুরুত্বপূর্ণ দিকটি সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ মোকাবিলায় পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। ওয়ালিদের মতো তরুণদের আত্মহত্যার প্রবণতা রোধ করতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কাউন্সেলিং সেবার প্রসার প্রয়োজন বলে মত দিচ্ছেন তারা।
স্থানীয় সম্প্রদায় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডি এড়াতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছে।



