সন্তান জন্মের পর বাবারাও ভোগেন মানসিক অবসাদে: গবেষণা ও সমাধান
সন্তান জন্মের পর বাবারাও মানসিক অবসাদে ভোগেন

সন্তান জন্মের পর বাবারাও ভোগেন মানসিক অবসাদে: গবেষণা ও সমাধান

সন্তান পৃথিবীতে আসার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এই অনাবিল সুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে গভীর মানসিক সংকট। সাধারণত পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন বলতে মায়েদের সমস্যাকেই বোঝানো হয়, কিন্তু গবেষণা বলছে, সন্তান জন্মের পর বাবারাও বিষণ্ণতায় ভুগতে পারেন। একে বলা হয় প্যাটারনাল পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন, যা অনেক ক্ষেত্রে নীরব ও অদৃশ্য থেকে যায়।

হরমোনগত পরিবর্তন ও মানসিক প্রভাব

অনেকের ধারণা, সন্তান জন্মদানের শারীরিক কষ্ট মা সহ্য করেন বলে মানসিক অবসাদও শুধু তারই হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সন্তান জন্মের পর একজন বাবার শরীরেও হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময়ে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায়, আর ইস্ট্রোজেন ও অক্সিটোসিনের মাত্রা কিছুটা বেড়ে যায়। এই পরিবর্তন বাবাকে সন্তানের সঙ্গে আবেগিক বন্ধন গড়ে তুলতে সাহায্য করলেও, অনেক সময় মেজাজের ওঠানামা ও মন খারাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অনিদ্রা ও চাপের কারণসমূহ

এর পাশাপাশি রয়েছে তীব্র অনিদ্রা। নবজাতকের কান্নায় রাতের পর রাত ঘুম না হওয়া যে কারও মানসিক স্থিতিশীলতাকে নাড়িয়ে দিতে পারে। নতুন দায়িত্ব, সংসারের চাপ এবং আর্থিক দুশ্চিন্তা—সব মিলিয়ে অনেক বাবার মনে ভয় কাজ করে। সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা বা অতিরিক্ত খরচ সামলাব কিভাবে—এ প্রশ্নগুলো তাদের মনে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সামাজিক মানসিকতা ও নীরবতা

সমস্যাটিকে আরও জটিল করে তোলে সামাজিক মানসিকতা। আমাদের সমাজে পুরুষদের শক্ত ও অবিচল থাকার প্রত্যাশা করা হয়। ফলে অনেক বাবা নিজের কষ্ট প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খুব অল্পসংখ্যক নতুন বাবা মানসিক সহায়তার জন্য বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন। বাকিরা নীরবে কষ্ট সহ্য করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে পারিবারিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লক্ষণ চিহ্নিতকরণ

বাবাদের ডিপ্রেশনের লক্ষণ সবসময় স্পষ্ট নয়। অকারণে রাগ, বিরক্তি, পরিবার থেকে দূরে সরে যাওয়া, কাজে মনোযোগের অভাব—এসবই হতে পারে সতর্ক সংকেত। তাই সময়মতো এ লক্ষণগুলো চিহ্নিত করা জরুরি।

সমাধানের পথ

সমাধানের প্রথম ধাপ হলো সচেতনতা ও খোলামেলা আলোচনা। পরিবারকে যেমন মায়ের পাশে থাকতে হয়, তেমনি বাবার মানসিক অবস্থার প্রতিও নজর দেওয়া উচিত। প্রয়োজনে কাউন্সেলিং বা থেরাপির সাহায্য নিতে হবে। এটি লজ্জার নয়, বরং প্রয়োজনীয়। মনে রাখতে হবে, একজন মানসিকভাবে সুস্থ বাবাই একটি সুখী ও স্থিতিশীল পরিবার গড়ে তুলতে পারেন।