ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীর আত্মহত্যা: পারিবারিক কলহের জেরে মৃত্যু
রাজধানীর লালবাগ থানার আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ কাশ্মীরিটোলা এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নিরাপত্তা কর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মো. এনায়েত উল্লাহ (৩৬) নামের ওই ব্যক্তির মরদেহ সোমবার (৯ মার্চ) তার বাসা থেকে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করেন।
ঘটনার বিবরণ
নিহতের ভাই আলমগীরের বক্তব্য অনুযায়ী, এনায়েত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নিরাপত্তা কর্মী ছিলেন। পারিবারিক কলহের জেরে তিনি নিজের কক্ষে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মাফলার পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে।
অচেতন অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
পুলিশের বক্তব্য
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।
ফারুক আরও উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে এবং পারিবারিক কলহই এর প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ এখন বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে।
ব্যক্তিগত তথ্য
এনায়েত উল্লাহ ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার চর-গনেশ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবার নাম মো. নবী উল্লাহ। তবে বর্তমানে তিনি লালবাগের আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাছে পরিচিত মুখ ছিলেন। এই ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।
সামাজিক প্রভাব
এই আত্মহত্যার ঘটনা পারিবারিক কলহের তীব্রতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব মোকাবিলায় সহায়তা ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। তারা আরও বলেছে যে, কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
