প্রযুক্তি আসক্তি মাদকের মতোই বিপজ্জনক: মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের হুঁশিয়ারি
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সরদার আতিক সতর্ক করেছেন যে, প্রযুক্তি আসক্তি মাদকাসক্তির মতোই ভয়ংকর প্রভাব ফেলতে পারে। তার মতে, আপাতদৃষ্টিতে প্রযুক্তি আসক্তিতে মাদক কেনার মতো সরাসরি আর্থিক ক্ষতি বা শারীরিক অবনতি চোখে না পড়লেও, এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে।
মাদকবিরোধী পরামর্শ সভায় বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য
২০২৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি নিয়মিত আয়োজন হিসেবে মাদকবিরোধী পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে। এই সভায় পরামর্শ দেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সরদার আতিক এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান।
ডা. সরদার আতিক তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘প্রযুক্তির আসক্তি মাদকের মতোই ভয়ংকর। যদিও এটি সরাসরি আর্থিক ক্ষতি বা শারীরিক অবনতি সৃষ্টি করে না, তবে এর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর।’
প্রযুক্তি আসক্তির প্রধান নেতিবাচক প্রভাবসমূহ
ডা. সরদার আতিক প্রযুক্তি আসক্তির ফলে সৃষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন:
- সময়ের অপচয়: জীবনের অত্যন্ত মূল্যবান সময় অপ্রয়োজনীয় কাজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নতিতে বাধা সৃষ্টি করছে।
- মস্তিষ্কের অপব্যবহার: অপ্রয়োজনীয় ও তুচ্ছ বিষয়ে মস্তিষ্ক ব্যস্ত থাকার কারণে সৃজনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে এবং মানসিক স্বাস্থ্য দুর্বল হয়ে পড়ছে।
- সম্পর্কের অবনতি: অতিরিক্ত ডিভাইস নির্ভরতা মানুষে মানুষে সম্পর্কের সূক্ষ্ম আবেগীয় দিকগুলো দুর্বল করে দিচ্ছে, যা সামাজিক বন্ধনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
মাদকবিরোধী আন্দোলন ও প্রযুক্তি আসক্তি মোকাবিলা
এই সভায় বিশেষজ্ঞরা মাদকবিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি প্রযুক্তি আসক্তি মোকাবিলার গুরুত্বও তুলে ধরেন। তারা মনে করেন, প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের সময় সচেতনতা বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ডা. ফারজানা রহমান যোগ করেন, ‘প্রযুক্তি আসক্তি একটি আধুনিক সমস্যা, যা মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলছে। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও উপযুক্ত পরামর্শ প্রদান জরুরি।’
সভায় অংশগ্রহণকারীরা মাদক ও প্রযুক্তি উভয় ধরনের আসক্তি থেকে মুক্ত থাকার জন্য সহায়তা ও পরামর্শ গ্রহণের আহ্বান জানান। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং পরিবার ও সমাজের সমর্থন এই সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
