আপনি কি কখনো শুনেছেন যে আপনি ঘুমের মধ্যে কথা বলেন, অথবা আপনার পাশের কেউ ঘুমের ঘোরে বিড়বিড় করছে? চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘সোমনিলোকুই’ বলা হয়। প্রায় তিনজনের মধ্যে দুইজন মানুষ জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে ঘুমের মধ্যে কথা বলেন। জনপ্রিয় ধারণা অনুযায়ী, মানুষ ঘুমের মধ্যে গোপন কথা ফাঁস করে দেয় বলে মনে করা হলেও আসলে এটি মূলত স্বপ্নের প্রতিফলন বা ঘুমের বিঘ্নতাজনিত একটি প্রক্রিয়া।
ঘুমের মধ্যে কথা বলা আসলে কী?
এটি এক ধরনের ‘প্যারাসোমনিয়া’ বা ঘুম সংক্রান্ত ব্যাধি। ঘুমের মধ্যে মানুষ বিভিন্নভাবে শব্দ করতে পারে: ফিসফিস করে কথা বলা, সাধারণ স্বরে কথা বলা বা চিৎকার করা, সম্পূর্ণ অর্থবহ বাক্য বলা বা কারো সঙ্গে কথোপকথন চালানো, অথবা অস্পষ্ট শব্দ বা গোঙানি। সাধারণত এতে কোনো শারীরিক ঝুঁকি নেই, তবে এটি আপনার পাশের মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
মানুষ কেন ঘুমের মধ্যে কথা বলে?
আমাদের ঘুমের একটি চক্র প্রায় ৯০ মিনিটের হয় এবং প্রতি রাতে এরকম ৪-৫টি চক্র প্রয়োজন। যদি এই চক্রের কোনো পর্যায়ে মস্তিষ্ক আংশিক জেগে ওঠে বা বিঘ্নিত হয়, তখনই ঘুমের মধ্যে কথা বলার প্রবণতা দেখা দেয়। এর প্রধান কিছু কারণ হলো:
- মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা: অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকলে মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিশ্রাম পায় না।
- ঘুমের অভাব: পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া।
- মদ্যপান বা ড্রাগের প্রভাব: অ্যালকোহল সেবন ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে।
- স্লিপ অ্যাপনিয়া: ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা।
- জেট ল্যাগ: দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে ঘুমের সময়ের পরিবর্তন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?
অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি ভয়ের কিছু নয়। তবে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:
- যদি প্রাপ্ত বয়সে হঠাৎ করে এই সমস্যা শুরু হয়।
- যদি ঘুমের মধ্যে প্রচণ্ড ভয় পাওয়া, চিৎকার করা বা হিংস্র আচরণ (যেমন: হাত-পা ছোড়া) দেখা দেয়।
- যদি এটি আপনার বা আপনার সঙ্গীর প্রাত্যহিক জীবন ও ঘুমের মানের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
প্রতিকারের উপায়
ঘুমের মান উন্নত করার মাধ্যমেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এর জন্য কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি:
- নির্দিষ্ট সময়সূচি: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা।
- স্ক্রিন-ফ্রি সময়: ঘুমানোর অন্তত ৩০-৬০ মিনিট আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভি দেখা বন্ধ করা।
- ক্যাফেইন বর্জন: ঘুমানোর অন্তত ৬ ঘণ্টা আগে চা বা কফি এড়িয়ে চলা।
- উপযুক্ত পরিবেশ: শোবার ঘর অন্ধকার, শান্ত এবং আরামদায়ক রাখা।
- নিয়মিত ব্যায়াম: শারীরিক পরিশ্রম ঘুমের গভীরতা বাড়াতে সাহায্য করে।
সূত্র: হেলথ এসেনশিয়ালস



