জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের মাধ্যমে আমদানি করা দ্বিতীয় চালানে হাম-রুবেলার (এমআর) ১৫ লাখ ডোজ টিকা ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। এরসঙ্গে ৯০ হাজার টিডি টিকাও সরবরাহ করা হয়েছে। এই চালানের পর এবং সরবরাহে যেসব টিকা আছে, তা দিয়ে দেশে আগামী ৮ থেকে ১২ মাসের মধ্যে কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বিমানবন্দরে টিকা গ্রহণ
আজ বুধবার (৬ মে) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টিকার এই চালান গ্রহণ করে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে ৮ কোটি ৩৬ লাখ মার্কিন ডলার ইউনিসেফকে পরিশোধ করেছে, যার মাধ্যমে ১০ ধরনের ৯ কোটি ৫০ লাখ ডোজ টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরমধ্যে গত ৩ মে ১৫ লাখ ডোজ আইপিভি টিকা দেশে পৌঁছায়। আর আজ ৬ মে টিকার দ্বিতীয় চালানে ইউনিসেফ ১৫ লাখ ডোজ হাম-রুবেলা (এমআর) এবং টিডি ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে। আগামী ১০ মের মধ্যে আরও প্রায় ১ দশমিক ৮ কোটি ডোজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ সরবরাহ
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, অর্ডারকৃত টিকার সম্পূর্ণ সরবরাহ ইউনিসেফ আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে শেষ করবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ৩৫ মিলিয়ন ডলারের ভ্যাকসিনও ইউনিসেফের মাধ্যমে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১৫ মাসের ভ্যাকসিন (৩ মাস বাফারসহ) সংগ্রহ পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুত আছে এবং নতুন সরবরাহে অন্যান্য ভ্যাকসিনেও আগামী ৮–১২ মাস কোনো ঘাটতি থাকবে না।
হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬
বর্তমানে দেশব্যাপী ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখের বেশি শিশু টিকা গ্রহণ করেছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৩ শতাংশ। সরকার শতভাগ কভারেজ অর্জনের লক্ষ্যে কার্যক্রম জোরদার করেছে।
ইপিআইয়ের ভূমিকা
১৯৭৯ সাল থেকে পরিচালিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) দেশের শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ এবং লাখেরও বেশি শিশু রোগ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।



