লাকসামে যুবকের আত্মহত্যা: ফেসবুক স্ট্যাটাসে স্ত্রী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ
লাকসামে যুবকের আত্মহত্যা: ফেসবুক স্ট্যাটাসে অভিযোগ

লাকসামে যুবকের আত্মহত্যা: ফেসবুক স্ট্যাটাসে স্ত্রী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় ইস্রাফিল রাহাত মজুমদার (১৯) নামের এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে লাকসাম পৌর শহরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত্যুর আগে রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে তিনি ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্টে স্ত্রী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন।

ফেসবুক পোস্টে বিদায় বার্তা

ইস্রাফিল রাহাত মজুমদার তার ফেসবুক আইডিতে লিখেন, ‘বিদায় পৃথিবী, বিদায় আমার প্রিয় স্ত্রী, ভালো থেকো সুখে থাকো, তোমরা আমার সঙ্গে যেইটা করছ তার ফল একদিন তোমরা ঠিকই পাবা, আমার মায়ের বুক খালি করতেছো তোমরা, একদিন আল্লাহ তোমার এবং তোমার মায়ের বুক খালি করবে, আল্লাহ্‌ছাড় দেয় কিন্তু ছেড়ে দেয় না- কথাটা মনে রেখ।’ আরেকটি পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘খুব শিগগিরই চমক দেখবে, এখনো বেঁচে আছি কিন্তু আর বেশিক্ষণ বেঁচে থাকব না।’

এছাড়াও, তিনি স্ত্রী অন্তরা ও শাশুড়িসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, ‘তুমি যদি আমার সঙ্গে রাত ১২টার মধ্যে কথা না বলো- তাহলে আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেব এবং নিজেও আত্মহত্যা করব আর আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র দায়ী থাকবা তুমি আর তোমার মা।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দাম্পত্য জীবনের পটভূমি

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক বছর আগে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের হাউজিং সংলগ্ন অলি উল্লাহর মেয়ে অন্তরা আক্তারের সঙ্গে রাহাতের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনের বয়স প্রায় দুই বছর। অন্তরার আগের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে রাহাত মজুমদার শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন এবং লাকসামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ওটি বয় হিসেবে চাকরি করতেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ ও স্ত্রী এবং শাশুড়ির মানসিক চাপের কারণে রাহাত মজুমদার রাতে মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেন। পরে সোমবার সকাল ৬টায় রাহাতের শ্বশুরবাড়ির পাশে অচেতন অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখেন তার শাশুড়ি কুলসুম বেগম। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশি তদন্ত ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া

এ ঘটনায় লাকসাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ থানায় নিয়ে যায়। মৃত ইস্রাফিল রাহাত মজুমদারের মা জোছনা বেগম জানান, ‘ছেলের বউ ও শাশুড়ি আমার ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী, আমি থানায় যাচ্ছি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে।’

এদিকে, সোমবার ঘটনাটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এবং রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে। লাকসাম থানার ওসি মাকসুদ আহম্মদ বলেন, ‘লাশের সুরহতাল করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরে রিপোর্টের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’

এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক কলহের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ট্র্যাজেডি প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।