লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সাত বছরের এক শিশু নিখোঁজের একদিন পর মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় লোকজন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহে একজনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের পর আগুন দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে জেলা প্রশাসক, এসপি ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেছেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় ১৮ পুলিশ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
লাশ উদ্ধার
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের একটি গ্রামের ভুট্টাক্ষেত থেকে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়তো।
পরিবারের অভিযোগ
শিশুর পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, সোমবার বিকাল থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল। তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে ভুট্টাক্ষেতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। আজ সকালে মরদেহ উদ্ধার করে আদিতমারী থানা পুলিশ। এরপরই পুলিশ ও অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করে স্থানীয়রা।
ঘটনার বিবরণ
পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের ভাষ্যমতে, প্রতিদিনের মতো সোমবার বিকালে বাড়ির পাশে খেলতে যায় শিশুটি। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তবে কোনও সন্ধান পাননি। আজ সকালে গ্রামের লোকজন একটি ভুট্টাক্ষেতের কিছু গাছ ভাঙা ও কাঁচা মাটি দেখে সন্দেহ করেন। পরে সেখানকার একটি গর্তের ভেতর বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
বাবার বক্তব্য
শিশুটির বাবা বলেন, ‘গ্রামে আমার কোনও শত্রু নেই। আমি একজন সাধারণ কৃষক। গতকাল দুপুরেও মেয়ের সঙ্গে একসঙ্গে খাবার খেয়েছি। আমার ছোট শিশু মেয়েটিকে যারা এভাবে নির্যাতন করে মারলো, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
মায়ের বক্তব্য
শিশুটির মা বলেন, ‘মেয়েটিকে কোনও প্রলোভন দেখিয়ে বা জোরপূর্বক গ্রামের ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।’
ঘুষের অভিযোগ
শিশুটির বাবার অভিযোগ, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার আমরা থানায় গিয়েছিলাম। এ সময় ঘুষ দাবি করে পুলিশ। আমাদের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা দিতে চাইলেও ওসি তা নেননি। আরও বেশি টাকা দাবি করেন।
হামলা ও অগ্নিসংযোগ
এদিকে দুপুরে অভিযুক্ত সন্দেহে একজনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের পর অগ্নিসংযোগ করেন স্থানীয় লোকজন। সেখানে পুলিশ গেলে পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপারসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাদের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান উপস্থিত জনতাকে নাজমুল হককে প্রত্যাহার করা হবে জানালে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিলে স্থানীয় লোকজন শান্ত হন। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
পুলিশের বক্তব্য
আদিতমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তুহিন মিয়া বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।’
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে জানা যাবে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে কিনা।’
হামলা-ভাঙচুরের বিষয়ে ওসি বলেন, ‘এলাকার উত্তেজিত জনতা স্থানীয় কয়েকটি বাড়িতে সন্দেহবশত হামলা ও ভাঙচুর করেছেন। এমনকি তারা প্রশাসনের যানবাহনে হামলা ও ভাঙচুর করেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। হামলা ও ভাঙচুর ঠেকাতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ আহত হয়েছেন।’



