কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: নিহত ৬ নারীর তিনজনের লাশ শনাক্ত
কেরানীগঞ্জে কারখানা অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ নারী, তিনজনের লাশ শনাক্ত

কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: নিহত ৬ নারীর তিনজনের লাশ শনাক্ত

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার কদমতলী এলাকায় একটি গ্যাসলাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয়জনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। শনিবার রাতে মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে স্বজনরা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র দেখে তাদের শনাক্ত করেন। শনাক্ত হওয়া তিনজন হলেন মঞ্জু বেগম (৩৬), শাহীনুর বেগম (৩৫) এবং মীম আক্তার (১৬)। অবশিষ্ট তিন নারীর মরদেহ এখনো শনাক্ত হয়নি।

ব্যক্তিগত জিনিসপত্র দেখে শনাক্ত

নিহত মঞ্জু বেগমের ছেলে সাব্বির হোসেন জানান, মায়ের হাতে থাকা চাবির গুচ্ছ দেখে তিনি লাশ শনাক্ত করেছেন। তিনি দায়ীদের বিচার দাবি করেছেন। শাহীনুর বেগমের বাবা আজিজ কাজী বলেন, মেয়ের চুলের খোঁপার ক্লিপ দেখে মরদেহ শনাক্ত করতে পেরেছেন। মীম আক্তারের বাড়ি বরিশালের মুলাদী উপজেলায় এবং তার তিন বছরের একটি সন্তান রয়েছে। তার স্বামী কারাগারে থাকায় সংসারের দায়িত্ব তার ওপরই ছিল।

কারখানার নিরাপত্তা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, শনিবার দুপুরে আগানগর ইউনিয়নের কদমতলী ডিপজল গলি এলাকায় অবস্থিত এসআর গ্যাস লাইটার কারখানায় আগুন লাগে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঢাকা বিভাগ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক ছালেহ উদ্দিন বলেন, এই কারখানায় প্রচুর দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল এবং ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক এলাকায় প্রায় ২০ শতাংশ জমির ওপর টিনশেড ঘর নির্মাণ করে গোপনে কারখানাটি পরিচালনা করা হচ্ছিল। জমির মালিক আকরামের ছেলে আকতার হোসেন গোপনে এ কারখানা গড়ে তোলেন এবং ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। গত বছরও এই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, কিন্তু তখন কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। উপজেলা প্রশাসন কারখানা বন্ধের নির্দেশ দিলেও কিছুদিন পর আবার গোপনে এটি চালু করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত কমিটি গঠন ও গ্রেফতার

এ ঘটনায় ঢাকা জেলা প্রশাসন ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। কেরানীগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর কবির জানান, মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং কারখানা মালিক পক্ষের সহযোগী হিসেবে ইমান উল্লাহ মাস্তান নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ কারখানার মালিককে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে কারখানাটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বৈধতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে, যা শিল্প নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরছে।