ফেব্রুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩২ জন নিহত, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু
ফেব্রুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩২ নিহত, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা প্রধান

ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩২ জনের মৃত্যু, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা প্রধান কারণ

গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩২ জন নিহত ও ১ হাজার ৬৮ জন আহত হয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থাটি দেশের নয়টি জাতীয় দৈনিক, সাতটি অনলাইন গণমাধ্যম, ইলেকট্রনিক মাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ প্রাণহানি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৮৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৪ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার মোট দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। এছাড়া, দুর্ঘটনায় ১০২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৪ জন, অর্থাৎ ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।

বিভাগ অনুযায়ী দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান

বিভাগ অনুযায়ী পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ঢাকা বিভাগে। মোট দুর্ঘটনার প্রায় ২৪ শতাংশ সংঘটিত হয়েছে এই বিভাগে। ঢাকা বিভাগে ১২২টি দুর্ঘটনায় ১০৯ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ১৭ জন নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে বরিশাল বিভাগে। সেখানে ২৮টি দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত হয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুর্ঘটনার ধরন ও সময় বিশ্লেষণ

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট দুর্ঘটনার ৪৪ দশমিক ১০ শতাংশ গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ২১ দশমিক ৮৫ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০ দশমিক ১১ শতাংশ গাড়িচাপা, ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং বাকি শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ অন্যান্য কারণে সংঘটিত হয়েছে। সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২২ দশমিক ৪৩ শতাংশ সংঘটিত হয়েছে সকালে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হতাহতদের পেশাগত পরিচয়

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬১ জন শিক্ষার্থী, ৩৪ জন রাজনৈতিক দলের নেতা–কর্মী, ২৯ জন ওষুধ ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর বিক্রয় প্রতিনিধি, ২৩ জন ব্যবসায়ী, ১৭ জন এনজিও কর্মী, ১৪ জন ব্যাংক ও বিমা কর্মকর্তা, ১১ জন শিক্ষক, ৬ জন পোশাকশ্রমিক, ৪ জন সাংবাদিক, ৪ জন নির্মাণশ্রমিক এবং ৩ জন আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

দুর্ঘটনার স্থান ও কারণ

এ মাসে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার সবচেয়ে বেশি ২১৭টি ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে, যা মোট দুর্ঘটনার ৪১ শতাংশ। এ ছাড়া ৩০ শতাংশ মহাসড়কে, ১৬ শতাংশ শহরের সড়কে এবং প্রায় ১১ শতাংশ গ্রামীণ সড়কে সংঘটিত হয়েছে। প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার ১১টি কারণ তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ সড়ক ও যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্প গতির যানবাহন চলাচল এবং তরুণ-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো অন্যতম।

প্রাণহানির তুলনামূলক বিশ্লেষণ

দুর্ঘটনা পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জানুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১৫ দশমিক ৭০ জন নিহত হয়েছিলেন। ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছেন ১৫ দশমিক ৪২ জন। এই হিসাবে গত মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ প্রাণহানি কমেছে। তবে প্রাণহানি কমার এই হার কোনো টেকসই উন্নতির সূচক নির্দেশ করছে না, কারণ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় কোনো দৃশ্যমান উন্নতি নেই।

নৌ ও রেল দুর্ঘটনা

এছাড়া, এই সময়ে আটটি নৌ দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ৯ জন আহত হয়েছেন এবং ৪৩টি রেল দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৬ জন নারী ও ৬২ জন শিশু রয়েছে, যা দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আরও তুলে ধরে।