গর্ভপাত নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা: চিকিৎসা বিজ্ঞান যা বলে
গর্ভপাত নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও সত্য

গর্ভপাত বা মিসক্যারেজ যেকোনো পরিবার, বিশেষ করে গর্ভবতী মায়ের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি ঘটনা। তবে গর্ভপাত নিয়ে সমাজে নানা ধরনের ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে, যা অনেক সময় অযথা ভয় ও দুশ্চিন্তা তৈরি করে।

গর্ভপাতের কারণ নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা

গর্ভপাতের ঝুঁকি কমাতে বা কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অনেকেই বিভিন্ন বিধিনিষেধ বা উপদেশ দিয়ে থাকেন। আবার গর্ভপাত হয়ে গেলে কোনো নির্দিষ্ট অভ্যাস বা ঘটনার ওপর দোষ চাপানো হয়; কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, এসব ধারণার অধিকাংশেরই কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো কী কী?

  • মানসিক চাপ ও হতাশা: অনেকে মনে করেন গর্ভাবস্থায় মানসিক চাপ, হতাশা বা আকস্মিক আতঙ্কের কারণে গর্ভপাত হয়। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ মানসিক চাপ গর্ভপাতের সরাসরি কারণ নয়।
  • ভারী কাজ ও ব্যায়াম: ভারী কাজ করা বা ব্যায়াম করলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে বলে ধারণা প্রচলিত। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, স্বাভাবিক শারীরিক কার্যক্রম ও পরিমিত ব্যায়াম গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায় না।
  • দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ: দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ করলে গর্ভপাত ঘটে—এমন ধারণাও বিজ্ঞানসম্মত নয়।
  • সহবাস ও ভ্রমণ: সহবাস, বিমানে ভ্রমণ কিংবা ঝাল খাবার খাওয়ার কারণে গর্ভপাত হয়—এসব ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়।

গর্ভপাতের প্রকৃত কারণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভপাতের প্রকৃত কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জটিল শারীরিক ও জিনগত বিষয়, যা সাধারণ জীবনযাত্রার কারণে ঘটে না। যেমন ভ্রূণের ক্রোমোজোমাল অস্বাভাবিকতা, মায়ের হরমোনজনিত সমস্যা, জরায়ুর গঠনগত ত্রুটি বা ইমিউন সিস্টেমের জটিলতা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সঠিক পরামর্শই গুরুত্বপূর্ণ

গর্ভাবস্থায় অযথা ভয় নয়, বরং সঠিক চিকিৎসা ও পরামর্শ গ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। গর্ভপাতের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পুষ্টিকর খাবার ও নিয়মিত চেকআপ জরুরি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সূত্র: স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পর্কিত ওয়েবসাইট ‘সহায়’