হামের প্রাদুর্ভাব রোধে ডব্লিউএইচওর জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান
হামের প্রাদুর্ভাব রোধে ডব্লিউএইচওর জরুরি আহ্বান

বাংলাদেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, শক্তিশালী নজরদারি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা এবং উন্নত টিকাদান কভারেজ নিশ্চিত না করলে এই প্রাদুর্ভাব আরও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

টিকাদান কভারেজ বাড়ানোর সুপারিশ

ডব্লিউএইচও সুপারিশ করেছে যে, সব পৌরসভায় হাম-প্রতিরোধী টিকার উভয় ডোজের কভারেজ কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সন্দেহভাজন রোগী দ্রুত শনাক্ত করতে সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি

উচ্চ-ট্রাফিক সীমান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে সন্দেহভাজন সংক্রমণ দ্রুত শনাক্ত করে প্রতিক্রিয়া জানানো যায়। সংস্থাটি প্রশিক্ষিত দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল মোতায়েন এবং আমদানি করা রোগী শনাক্তে জাতীয় প্রোটোকল সক্রিয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও টিকাদান

প্রাদুর্ভাবের সময় রোগীদের আইসোলেশন এবং অন্যদের সংস্পর্শ কমানোর মাধ্যমে হাসপাতালে সংক্রমণ প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ডব্লিউএইচও। স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবহন ও পর্যটন কর্মী এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মতো উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।

অভিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য টিকাদান

সীমান্ত অঞ্চলে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক টিকাদান প্রচারণার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো যায়। পর্যাপ্ত টিকার মজুত বজায় রাখা এবং বাস্তুচ্যুত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীসহ ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর জন্য টিকার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশের ঝুঁকি উচ্চ

ডব্লিউএইচও বাংলাদেশের জাতীয় ঝুঁকি 'উচ্চ' হিসেবে মূল্যায়ন করেছে, কারণ ক্রমাগত সংক্রমণ, বিপুল সংখ্যক ঝুঁকিপূর্ণ শিশু, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি এবং হাম-সম্পর্কিত মৃত্যুর সন্দেহ রয়েছে। বেশিরভাগ রোগীই টিকাবিহীন বা আংশিক টিকাপ্রাপ্ত শিশু, যার মধ্যে টিকা দেওয়ার বয়স হয়নি এমন শিশুও রয়েছে, যা গুরুতর ফলাফল ও নিরবচ্ছিন্ন সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

এই প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশের হাম নির্মূলের অগ্রগতিতে একটি ধাক্কা এবং টেকসই সংক্রমণের প্রতি ক্রমবর্ধমান দুর্বলতা তুলে ধরেছে। সীমান্ত পারাপার, বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারের মতো প্রধান নগর কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।

হামের প্রাদুর্ভাবের কারণ

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ এবং বিশ্বব্যাপী শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। বাংলাদেশে এই প্রাদুর্ভাবের পেছনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার নিম্ন স্তর দায়ী, যেখানে আক্রান্ত অনেক শিশুই টিকাবিহীন বা মাত্র একটি ডোজ পেয়েছে। প্রায় ৯১ শতাংশ রোগী ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উল্লেখযোগ্য ঘাটতি নির্দেশ করে।

যদিও বাংলাদেশ পূর্বে শক্তিশালী টিকাদান কভারেজ অর্জন করেছিল এবং হামের প্রকোপ কমিয়েছিল, তবে সাম্প্রতিক টিকার ঘাটতি, নিয়মিত টিকাদানে ফাঁক এবং ২০২০ সাল থেকে দেশব্যাপী প্রচারণার অভাব দুর্বলতা বাড়িয়েছে।

আঞ্চলিক ও বিশ্ব ঝুঁকি

আঞ্চলিকভাবে ঝুঁকি বেশি রয়ে গেছে, কারণ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত পারাপার, যেখানে টিকাদানের চ্যালেঞ্জ ও ক্রমবর্ধমান রোগী রয়েছে, বিশেষ করে যশোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মতো সীমান্ত জেলাগুলোতে হুমকি আরও বাড়িয়েছে। বিশ্বব্যাপী, ডব্লিউএইচও ঝুঁকি 'মধ্যম' হিসেবে মূল্যায়ন করেছে, কারণ উচ্চ জনগতিশীলতা ও বিশ্বব্যাপী হামের সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে, যা টেকসই সতর্কতা ও টিকাদান প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়।