ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) হকার পুনর্বাসনের জন্য রাজধানীতে ছয়টি খোলা মাঠ নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। শনিবার (২৫ এপ্রিল) গুলশানের একটি হোটেলে 'ঢাকা কি মৃত নগরী হতে যাচ্ছে' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান।
হকার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, এসব নির্ধারিত স্থানে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে হকারদের পুনর্বাসন করা হবে। সেখানে অস্থায়ী কাঠামো যেমন চৌকি বা ট্রলি ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে এবং দিনের শেষে সেগুলো সরিয়ে নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ফুটপাতে হকারের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। আগে যেখানে প্রায় ২০০ হকার ছিল, এখন তা বেড়ে প্রায় ২ হাজারে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এতে হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স চলাচলসহ জরুরি সেবাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব
শফিকুল ইসলাম খান জানান, দুই শতাংশ মানুষের সুবিধার কারণে ৯৮ শতাংশ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে এবং এ অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। তিনি নগর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবের কথাও তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, আমরা যা করি, তার অধিকাংশই সাময়িক। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। আর টেকসই সমাধানের জন্য সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে একটি কর্তৃপক্ষের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
রাজউক চেয়ারম্যানের বক্তব্য
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজউক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, নগর সেবাগুলোকে এক ছাতার নিচে আনা গেলে সমন্বয়হীনতা কমবে এবং সেবার মান বাড়বে। তথ্যের ঘাটতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাজউক চেয়ারম্যান আরও জানান, রাজধানীর যানজট নিরসনে পার্কিং স্পেস উদ্ধারে কাজ চলছে। এ সময় তিনি গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নতির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পূর্বাচল প্রকল্পকে সক্রিয় করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।



