বরিশালের আগৈলঝাড়ায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। আজ সোমবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ক্যাম্পেইনের শুভ সূচনা করেন।
জ্বালানিসংকট ও হাম মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা
তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সরকার জ্বালানিসংকট এবং হামের মতো স্বাস্থ্যগত সংকট মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, "আমরা এমন এক সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছি যখন দায়িত্ব নেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হয়, যা সারা বিশ্বে জ্বালানির সংকট তৈরি করে। এরপরই শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, গণমাধ্যমের খবরে দেখা গেছে, সচেতনতার ঘাটতির কারণে কিছু শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে, যা একটি উদ্বেগজনক বিষয়।
টিকাদান কর্মসূচিতে অতীত সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা
জহির উদ্দিন স্বপন বিগত সরকারগুলোর টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনায় অবহেলার কথা উল্লেখ করে বলেন, "বিগত দিনে যেসব সরকার দায়িত্ব পালন করেছে, তারা এই টিকাদান কর্মসূচিকে যথাযথভাবে পরিচর্যা করেনি। এ কারণেই আজ যখন সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে, তখন এর প্রাদুর্ভাব থেকে আমরা শিশুদের সুরক্ষা দিতে অনেকটা ব্যর্থ হয়েছি।"
তিনি দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
জ্বালানিসংকটের পেছনে রাজনৈতিক কারণ
তথ্যমন্ত্রী জ্বালানিসংকটের পেছনে রাজনৈতিক কারণ চিহ্নিত করে বলেন, "দেশে প্রচুর প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত থাকলেও বিগত স্বৈরাচার সরকার নিজেদের ব্যবসার স্বার্থে দেশীয় গ্যাস উত্তোলনের কোনো ব্যবস্থা না করে আমদানিনির্ভর জ্বালানিনীতি তৈরি করেছিল।"
তিনি অভিযোগ করেন, এই নীতি কেবল দলীয় স্বার্থে গৃহীত হয়েছিল এবং যদি নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের সক্ষমতা থাকত, তাহলে হরমুজ প্রণালির সংকটে পড়তে হতো না।
রাষ্ট্রসংস্কার ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
জহির উদ্দিন স্বপন উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে সংস্কার আনতে না পারলে এসব সংকট থেকে জনগণকে উদ্ধার করা যাবে না। তিনি বলেন, "ক্ষমতায় যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রসংস্কারের কর্মসূচি দিয়েছেন। সেই কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষায় জ্বালানিসংকট ও হামের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করা হচ্ছে।"
তিনি অতীত নেতাদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই দায়িত্ব পালন করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তথ্যমন্ত্রী শেষ করেন এই বলে যে, যারা এই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন, তারা আজ কেবল দর্শক হিসেবে রয়ে গেছেন। এই ক্যাম্পেইন শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



