নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত যুবকের নাম সুমন (২৮)। তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২৩ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে মারা যান।
ঘটনার বিবরণ
এর আগে ফতুল্লার পঞ্চবটি মেথরখোলা এলাকার পৌর টার্মিনালে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামের নারায়ণ মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। এ ঘটনায় হাতেম (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন পৌর টার্মিনালের চালক ও শ্রমিকরা। আটক হাতেম ফতুল্লা মডেল থানার মুসলিমনগর এলাকার আলিমুদ্দিনের ছেলে।
পারস্পরিক সম্পর্ক
নিহত সুমন ও অভিযুক্ত হাতেম ফতুল্লার পঞ্চবটি পৌর টার্মিনাল সংলগ্ন বোডবাড়ী এলাকার নূরী মিয়ার বাড়িতে পাশাপাশি কক্ষে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাতেম একই টার্মিনালে অপর একটি ট্রাকের হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত ঘরে বসে মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি নিয়ে সুমন প্রতিবাদ করেন এবং বাড়ির মালিককেও অবহিত করেন। এ ঘটনায় হাতেম ক্ষুব্ধ হন সুমনের ওপর।
হামলা ও মৃত্যু
শনিবার সকাল ১০টার দিকে সুমন হেঁটে পৌর টার্মিনালে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। টার্মিনালের সামনে পৌঁছলে সেখানে ওতপেতে থাকা হাতেম পেছন থেকে কাঠের টুকরো দিয়ে তার মাথা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে সুমন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ শহরের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে আইসিইউ শয্যা না থাকায় পরে তাকে রামপুরার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
একই টার্মিনালের শ্রমিক মো. শুক্কুর মিয়া জানান, সকালে ফোন পেয়ে তিনি হাসপাতালে যান। তিনি বলেন, মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় হাতেম ক্ষিপ্ত হয়ে কাঠের টুকরো দিয়ে সুমনের মাথায় আঘাত করেন।
পুলিশের অবস্থান
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, রাতে বিষয়টি জানতে পেরেছি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়রা একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ যোগাযোগ করেনি এবং লিখিত অভিযোগও দেয়নি।



