রংপুরে জ্বালানি কেনার লাইনে দাঁড়িয়ে স্কুলশিক্ষকের হৃদরোগে মৃত্যু
রংপুর শহরে জ্বালানি সংকটের মধ্যেই শনিবার রাতে এক স্কুলশিক্ষক জ্বালানি কেনার লাইনে দাঁড়িয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মৃত শিক্ষকের নাম মেহেদী হাসান, যিনি শহরের নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বালাকুয়ার চৌরাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।
লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন মেহেদী হাসান
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, মেহেদী হাসান পর্যটন ক্রসিং এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি কেনার জন্য গিয়েছিলেন। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন এবং তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ রহমান পুলিশকে জানিয়েছেন, তারা খবর পেয়েছেন যে পেট্রোল পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। তিনি বলেন, "লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনি সম্ভবত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন।"
জ্বালানি সংকটে উত্তেজনা ও সংঘাত
এদিকে, রবিবার রংপুর শহরজুড়ে জ্বালানি সংকটের কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। শত শত মোটরসাইকেল ও যানবাহন দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছে। শাপলা চত্বর এলাকায় সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে একটি পেট্রোল পাম্পে লাইন ভেঙে জ্বালানি নেওয়ার বিষয়ে বিবাদ সংঘাতে রূপ নেয়। এতে তিন ব্যক্তি আহত হন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন যে পেট্রোল পাম্পগুলোতে কোনো সঠিক লাইন ব্যবস্থা বজায় রাখা হচ্ছে না। অনেকেই দাবি করছেন, জ্বালানি সংকটের মধ্যেও পেট্রোল কম দেওয়া হচ্ছে। শহরের পেট্রোল পাম্পগুলোতে সরবরাহের কোনো স্পষ্ট সময়সূচি না থাকায় বাসিন্দারা তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন এবং জ্বালানি কার্ড ব্যবস্থাসহ উন্নত নিয়ন্ত্রণের দাবি জানাচ্ছেন।
এই ঘটনাগুলো শহরে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।



