নিয়মিত দৌড়ানোর অভ্যাস হৃদযন্ত্র শক্তিশালী করে ও আয়ু বাড়ায়: গবেষণা
নিয়মিত দৌড়ানোর অভ্যাস শরীরের জন্য কতটা উপকারী তা বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। ক্যালোরি ঝরানো থেকে শুরু করে হাড় ও হৃদযন্ত্রকে শক্তিশালী করা, এমনকি ঘুমের মান উন্নত করতেও দৌড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের পরামর্শ, হঠাৎ বেশি না দৌড়ে ধীরে শুরু করা উচিত। সময়, দূরত্ব ও গতি ধাপে ধাপে বাড়াতে হবে। নিয়মিত চর্চার পাশাপাশি আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি, যাতে এটি শরীরের জন্য নিরাপদ ও উপযোগী হয়।
দৌড়ানোর উল্লেখযোগ্য উপকারিতা
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ভেরিওয়েল হেলথ দৌড়ানোর বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য উপকারিতা তুলে ধরেছে।
হৃদযন্ত্র ভালো রাখে: প্রতিদিন দৌড়ালে হৃদযন্ত্র আরও কার্যকরভাবে কাজ করে। এতে শরীরের পেশিতে বেশি অক্সিজেন পৌঁছে যায়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে এবং অকালমৃত্যুর সম্ভাবনাও হ্রাস করতে পারে।
ঘুম স্বাস্থ্যকর করে: গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ঘুম ভালো করতে সাহায্য করে। সপ্তাহের কর্মদিবসে সকালে মাত্র ৩০ মিনিট দৌড়ালেও ঘুমের উন্নতি হয়। আবার এক ঘণ্টা দৌড়ালে ঘুমের সময় ও মান—দুটোই বাড়তে পারে।
জয়েন্ট ও মেরুদণ্ডের জন্য উপকারী: অনেকে মনে করেন দৌড়ালে হাঁটু বা পিঠে ব্যথা বাড়ে। তবে গবেষণা বলছে, নিয়মিত দৌড়ালে জয়েন্ট শক্তিশালী হয় এবং তা সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এমনকি হাঁটু প্রতিস্থাপনের ঝুঁকিও কমতে পারে। নিয়মিত দৌড়ানো ব্যক্তিদের মেরুদণ্ডও তুলনামূলক সুস্থ থাকে।
মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়: দৌড়ানোর মতো ব্যায়াম নতুন স্নায়ুকোষ তৈরিতে সহায়তা করে এবং বয়সজনিত মানসিক দুর্বলতা কমাতে ভূমিকা রাখে। এতে স্মৃতিশক্তি ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাও বাড়ে। পাশাপাশি এটি মস্তিষ্কজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: নিয়মিত দৌড়ালে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এটি সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইকারী শ্বেত রক্তকণিকা সক্রিয় করে এবং শ্বাসনালীর ক্ষতিকর জীবাণু দূর করতে সহায়তা করে।
হাড় মজবুত করে: গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত দৌড়ান তাদের হাড়ের ঘনত্ব বেশি থাকে। বিশেষ করে তরুণদের ক্ষেত্রে হাড়ে খনিজ উপাদান বাড়াতে এটি সহায়ক।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে: দৌড়ানোর ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকভাবে বাড়ে, যা হৃদযন্ত্র, ফুসফুস ও রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থাকে সুস্থ রাখে। এটি রক্তনালীর কার্যক্ষমতা বাড়ায়, রক্তচাপ কমায় এবং অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস (রক্তনালীতে চর্বি জমা) প্রতিরোধে সহায়তা করে।
মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি: অনেকেই দৌড়ানোর পর নিজেকে বেশি চাঙ্গা ও প্রফুল্ল মনে করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে মাত্র ৩০ মিনিট করে তিন সপ্তাহ দৌড়ালেও মেজাজ, মনোযোগ ও ঘুমের মান উন্নত হয়। এটি উদ্বেগ ও বিষণ্নতার লক্ষণ কমাতেও সাহায্য করে।
দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমায়: নিয়মিত দৌড়ানোর মতো শারীরিক ব্যায়াম দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের ক্যানসার ও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
আয়ু বাড়াতে সহায়ক: গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সপ্তাহে প্রায় দুই ঘণ্টা দৌড়ালে গড়ে তিন বছর পর্যন্ত আয়ু বাড়তে পারে।
ওজন কমাতে সাহায্য করে: দৌড়ানো ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে, যা সময়ের সঙ্গে ওজন কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। সুষম খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মিলিয়ে এটি শরীরে ক্যালোরির ঘাটতি তৈরি করে এবং পেটের মেদ কমাতেও সহায়তা করে।
সব মিলিয়ে, নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে দৌড়ানো শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি অভ্যাস—তবে শুরু করার আগে নিজের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।



