বুকে ব্যথা হার্টের নাকি গ্যাসের? চিকিৎসকদের পরামর্শে জেনে নিন পার্থক্য
বুকে ব্যথা হলেই অনেকেই হৃদরোগের কথা ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বুকে ব্যথার পেছনে হৃদরোগ ছাড়াও গ্যাস্ট্রিক, ফুসফুসের সমস্যা, পেশিতে টান, পিত্তথলির রোগ কিংবা মানসিক চাপ দায়ী হতে পারে। সঠিক কারণ চিহ্নিত করা না হলে ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হতে পারে।
বুকে ব্যথার বিভিন্ন কারণ ও লক্ষণ
বুকে ব্যথা শুধু হৃদরোগেরই লক্ষণ নয়। নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কারণে বুকে ব্যথা হতে পারে।
- গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স: গলার কাছে দলা পাকানো অনুভূতি, খাদ্যনালি দিয়ে অ্যাসিড উঠে আসা, বুকে-পিঠে জ্বালাপোড়া। ভারি খাবার খেয়ে শোয়ার পর চোঁয়া ঢেকুর ওঠা।
- ফুসফুসের সমস্যা: শ্বাস টানার সময় বা কাশতে গিয়ে বুকের একপাশে তীব্র যন্ত্রণা। নিউমোনিয়া, পালমোনারি এমবলিজম, যক্ষ্মা বা ফুসফুসের ক্যানসারের পূর্বলক্ষণ হতে পারে।
- মানসিক চাপ: উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা বা প্যানিক অ্যাটাকের কারণে বুকে চাপ বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
- পেশিতে টান: অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা ভুল ভঙ্গিমার কারণে বুকের পেশিতে টান পড়তে পারে।
হৃদরোগের ব্যথার স্বতন্ত্র লক্ষণ
হৃদরোগের কারণে হওয়া বুকে ব্যথার কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ রয়েছে, যা অন্যান্য ব্যথা থেকে আলাদা।
- বুকের মাঝখানে চাপ বা ব্যথা শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে তীব্র হতে থাকে।
- ব্যথা বুক থেকে গলা, ঘাড়, চোয়াল, কাঁধ বা হাতে ছড়িয়ে পড়ে।
- দরদর করে ঘাম হওয়া, শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস নিতে কষ্ট অনুভব করা।
- হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া এবং হৃৎস্পন্দনের হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া।
- ব্যথার সঙ্গে বমি বমি ভাব বা মাথা ঘোরানো হতে পারে।
চিকিৎসকরা সতর্ক করে দিয়েছেন, তীব্র বুকে ব্যথা, ঘাম ও শ্বাসকষ্ট একসঙ্গে দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে ইসিজি ও ট্রপোনিন আই পরীক্ষা করা উচিত। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কখন সতর্ক হবেন?
বুকে ব্যথার ধরন ও তীব্রতা仔细观察 করা জরুরি। যদি ব্যথা ক্রমাগত বাড়তে থাকে, বিশ্রাম নিলেও না কমে, এবং অন্যান্য লক্ষণ যেমন শ্বাসকষ্ট, ঘাম, বমি ভাব দেখা দেয়, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। অন্যদিকে, খাওয়ার পর বা শোয়ার সময় ব্যথা বাড়লে, গলায় জ্বালাপোড়া বা ঢেকুর ওঠলে তা গ্যাস্ট্রিকের লক্ষণ হতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, বুকে ব্যথা হলে আগে আতঙ্কিত না হয়ে লক্ষণগুলো সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করুন। প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা নিন, কারণ হৃদরোগের ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। স্বাস্থ্য সচেতনতা ও নিয়মিত চেকআপ হার্টের সমস্যা সহ নানা রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে।



