শহীদ মুগ্ধের বাবার হার্টে সফল রিং প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার সম্পন্ন
জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পানি ও বিস্কুট বিতরণকালে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমানের হার্টে সফলভাবে রিং প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিভিডি) সম্পন্ন এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার হার্টের তিনটি ব্লকের সমস্যা সমাধান করা হয়েছে।
অস্ত্রোপচারের বিস্তারিত বিবরণ
সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল মীর মোস্তাফিজুর রহমানের হার্টে দুটি রিং প্রতিস্থাপন করেন। এই জটিল অস্ত্রোপচারটি সম্পূর্ণ সফল হয়েছে এবং বর্তমানে রোগী সুস্থ আছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে অধ্যাপক আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, "মীর মোস্তাফিজুর রহমান হার্টের সমস্যা নিয়ে আগেও ভর্তি হয়েছিলেন। তখন হার্টের ব্লক থাকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। মাসখানেক পর এনজিওগ্রাম পরীক্ষার মাধ্যমে রিং বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন তিনি সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত এবং সুস্থ আছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।"
চিকিৎসার ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা
মীর মোস্তাফিজুর রহমানের চিকিৎসা ইতিহাস থেকে জানা গেছে:
- ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি গুরুতর হার্ট অ্যাটাক করলে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়
- পরদিন চিকিৎসকরা তাকে এনআইসিভিডিতে রেফার করেন
- তাকে ২ দিন ইমার্জেন্সি সিসিইউতে এবং ৫ দিন কেবিনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়
- শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ১৪ ফেব্রুয়ারি তাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়
- প্রোটোকল অনুযায়ী একমাস পর এনজিওগ্রামের তারিখ নির্ধারণ করা হয়
- ৮ মার্চ পুনরায় ভর্তি হলে এনআইসিভিডির পরিচালক নিজে তার এনজিওগ্রাম করেন
- এসময় তার হার্টে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে, যার ফলে কার্ডিয়াক সার্জনের পরামর্শে সোমবার অস্ত্রোপচার করা হয়
চিকিৎসক দল ও পর্যবেক্ষণ
অস্ত্রোপচারে অংশগ্রহণকারী চিকিৎসক দলের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন:
- এনআইসিভিডির অধ্যাপক ডা. আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী
- সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারহানা আহমেদ
- সহকারী অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান মজুমদার
- সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. ছাদেকুল ইসলাম
- সহকারী পরিচালক ডা. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ
- ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল প্রমুখ
ডা. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, "রিং প্রতিস্থাপনের পর রোগীকে ২৪ ঘণ্টা সিসিইউতে রাখা হয়েছিল। সিনিয়র চিকিৎসকদের কঠোর পর্যবেক্ষণের পর তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন।"
সরকারি সহায়তা ও পরিবারের উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে মীর মোস্তাফিজুর রহমানের সম্পূর্ণ চিকিৎসা খরচ সরকারিভাবে বহন করা হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি স্টেন্ট (রিং) সরবরাহ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও 'আমরা বিএনপি পরিবার' নিয়মিতভাবে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন। এর আগে, বাবার অসুস্থতার বিষয়ে শহীদ মুগ্ধের ভাই মীর স্নিগ্ধ দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে ফেসবুকে একটি আবেগপূর্ণ পোস্ট করেছিলেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
এই সফল অস্ত্রোপচার শুধু একটি চিকিৎসা সাফল্যই নয়, বরং জাতীয় শহীদ মুগ্ধের পরিবারের প্রতি জাতির সমবেদনা ও সহমর্মিতারও একটি প্রকাশ। চিকিৎসক দলের দক্ষতা ও সরকারি সহায়তা এই কঠিন সময়ে পরিবারটিকে উল্লেখযোগ্য সমর্থন দিয়েছে।



