হাত-পায়ে হঠাৎ ব্যথার কারণ ও জরুরি প্রতিকার: অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়া
হাত-পায়ে হঠাৎ ব্যথা: কারণ ও জরুরি প্রতিকার

হাত-পায়ে হঠাৎ ব্যথা: অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়ার বিপদ সংকেত

আঘাত ছাড়াই হাত বা পায়ে হঠাৎ তীব্র ব্যথা দেখা দিলে অনেকেই তা গুরুত্ব দেন না। কিন্তু এই অবহেলা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এই ব্যথা স্বল্পমেয়াদী বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, এবং প্রায়ই ধমনিতে ব্লক বা রক্ত চলাচলে বাধার কারণে সৃষ্টি হয়। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও ভাস্কুলার সার্জন ডা. আবুল হাসান মুহাম্মদ বাশার এই সমস্যার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন।

অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়া কী এবং কেন হয়?

অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়া হলো হাত বা পায়ের ধমনিতে হঠাৎ রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা। এটি সাধারণত রক্ত জমাট বাঁধার কারণে ঘটে। রক্তনালি বা হৃৎপিণ্ডে রক্ত জমাট বেঁধে গেলে তা রক্তস্রোতের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে রক্ত সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। মস্তিষ্কে ঘটলে স্ট্রোক হয়, আর হাত-পায়ে ঘটলে তা অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়া নামে পরিচিত।

এই অবস্থার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • ধমনির সমস্যা: ধমনির ভেতরের দেয়ালে কলেস্টেরল জমে আস্তরণ তৈরি হলে তা ভেঙে গিয়ে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে, যা ধমনি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে।
  • অ্যানিউরিজম: ধমনির ফুলে যাওয়া অংশ থেকে জমাট রক্ত ছুটে গিয়ে পরবর্তী অংশের ধমনি বন্ধ করতে পারে।
  • সারভাইকাল রিব: ঘাড়ের বাড়তি হাড় হাতের ধমনিতে চাপ সৃষ্টি করে ক্ষতি করতে পারে, ফলে অ্যানিউরিজম ও রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। এটি নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
  • রক্তের সমস্যা: রক্তের উপাদানগত সমস্যা বা পানিশূন্যতার মতো কারণে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে গেলে ধমনিতে জমাট বাঁধতে পারে।

অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়ার লক্ষণসমূহ

এই অবস্থার লক্ষণগুলো সাধারণত আকস্মিক ও তীব্র হয়। সতর্ক থাকতে নিচের উপসর্গগুলো জানা জরুরি:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  1. হঠাৎ করে হাত বা পা ঠাণ্ডা হয়ে তীব্র ব্যথা শুরু হওয়া।
  2. হাত বা পা দ্রুত ফ্যাকাসে ও নীল হয়ে যাওয়া।
  3. আক্রান্ত অঙ্গে বোধশক্তি কমে যাওয়া।
  4. নাড়াচাড়ার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া।
  5. আক্রান্ত অংশে নাড়ির স্পন্দন অনুভব না করা।

ক্রনিক লিম্ব ইশকেমিয়ার তুলনায় অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়ার মূল পার্থক্য হলো সময়। ক্রনিক অবস্থায় রক্ত চলাচল ধীরে ধীরে কমে, কিন্তু অ্যাকিউটে এটি কয়েক মিনিট বা ঘণ্টার মধ্যে ঘটে যায়। ফলে শরীর বিকল্প রক্তনালি তৈরি করার সময় পায় না, যা অঙ্গহানির কারণ হতে পারে।

জরুরি করণীয় ও চিকিৎসা

অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়া সন্দেহ হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগীর উচিত সময় নষ্ট না করে নিকটস্থ হাসপাতাল বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া। চিকিৎসকদের দায়িত্ব হলো দ্রুত রোগ নির্ণয় করে রক্তনালি বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো।

দেশে এই প্রক্রিয়ায় বিলম্ব একটি বড় সমস্যা, যা যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সচেতনতার অভাবে ঘটে। ডা. বাশার সতর্ক করে বলেন, "অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়ায় সময়ের মূল্য অপরিসীম। আমরা বলি, 'টাইম ইজ লিম্ব'—অর্থাৎ বিলম্ব হলে অঙ্গহানির ঝুঁকি বাড়ে।"

চিকিৎসার মধ্যে রক্তনালির অপারেশন, সারভাইকাল রিব কেটে ফেলা বা রক্ত জমাট দূর করার পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে, তাই লক্ষণ দেখা দিলেই সতর্ক হওয়া উচিত।

হাত-পায়ে হঠাৎ ব্যথাকে কখনই উপেক্ষা করবেন না। এটি জীবন-মরণের বিষয় হতে পারে, তাই প্রাথমিক সতর্কতা ও দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করুন।