বগুড়ায় জমি বিরোধের জেরে শিক্ষক হত্যা, পাঁচ আসামি গ্রেফতার
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে তারাবিহ নামাজের পর ফুলবাড়ি ইউনিয়নের বাজার এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত শিক্ষক চয়ন রাজভর (৩০) স্থানীয় ‘দ্য নিউ কনটেস্ট কোচিং সেন্টারের পরিচালক ও শিক্ষক ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ ও সংঘর্ষ
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, জমি নিয়ে শাহীন ফকিরের সঙ্গে তুলারাম রাজভরের ছেলে চয়নের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে আদালতে একাধিক মামলাও চলমান ছিল। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহীন ফকিরের লোকজন বিরোধপূর্ণ জমিতে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে চয়নের লোকজন সেখানে বাধা দিতে এলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে চয়ন ও তার ভাই নয়ন রাজভর (৩৪) গুরুতর আহত হন। এ সময় প্রতিপক্ষের আমিনুল ফকিরও আহত হন। আহতদের সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক চয়নকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নয়নকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মামলা ও গ্রেফতার
নিহতের বড় ভাই প্রদীপ রাজভর সারিয়াকান্দি থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে ১৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। মামলার আসামিদের মধ্যে শাহীন ফকির, আমিনুল ফকির, ফাইন ফকির এবং তাদের আত্মীয়রা রয়েছেন। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে শাহীন ফকির, আমিনুল ফকির, রাব্বি ফকির, রাকিব ফকির এবং তাহের ফকিরকে গ্রেফতার করেছে।
সারিয়াকান্দি থানার ওসি আ ফ ম আসাদুজ্জামান জানান, পুলিশ ১৫ আসামির মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে এবং অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। শনিবার সকালে গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
শিক্ষক চয়ন রাজভরের হত্যার প্রতিবাদে ‘দ্য নিউ কনটেস্ট কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীরা শনিবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। ফুলবাড়ি বাজার থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি সারিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদে গিয়ে শেষ হয়। শিক্ষার্থীরা উপজেলা প্রশাসনের প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন, যার ফলে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শিক্ষার্থীরা চয়ন রাজভরের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌসের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক এবং স্মারকলিপির ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে। নিহতের পরিবার যাতে দ্রুত বিচার পায়, তার জন্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশের দ্রুত গ্রেফতার ও তদন্তের পদক্ষেপ প্রশংসিত হলেও, নিহতের পরিবার ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন। এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে।
