স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অভিযান: পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবহেলার অভিযোগ, দায়িত্বহীনদের জবাবদিহি চান
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অভিযানে অবহেলার অভিযোগ, দায়িত্বহীনদের জবাবদিহি

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হঠাৎ তদন্তে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবহেলার চিত্র

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল শনিবার সকালে নারসিংদীর পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি হঠাৎ তদন্ত পরিচালনা করেছেন। এই অভিযানে তিনি ডাক্তার ও কর্মীদের সময়মতো দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা এবং গ্রামীণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় অবহেলার প্রমাণ পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

অভিযানের সময় ও পদ্ধতি

মন্ত্রী সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পূর্বাভাস ছাড়াই হাসপাতালে পৌঁছান। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল ডাক্তার ও কর্মীরা সময়মতো দায়িত্বে উপস্থিত হচ্ছেন কিনা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার মান যাচাই করা। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ইতিমধ্যে রোগীরা জমায়েত হওয়া শুরু করলে, তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রটোকল ছাড়াই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন।

প্রবেশের পরপরই তিনি উপস্থিতি রেজিস্টার ও ডিউটি রোস্টার পরীক্ষা করেন। এই পরীক্ষায় তিনি রোস্টার অনুযায়ী বেশ কয়েকজন ডাক্তার ও কর্মীর অনুপস্থিতি লক্ষ্য করেন, যা তার অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মন্ত্রীর নির্দেশনা ও রোগীদের সাথে কথা

অভিযানের সময় মন্ত্রী জরুরি বিভাগ, প্যাথলজি ল্যাবরেটরি এবং বহির্বিভাগ পরিদর্শন করেন। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সঠিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পর্যাপ্ত ওষুধের মজুদ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রোগীদের সাথে কথা বলে মন্ত্রী তাদের উদ্বেগ শোনেন। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, যারা সময়মতো তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবেন, তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে

অভিযানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

এই তদন্তে পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও ঘোড়াশাল পৌরসভার বিএনপি সভাপতি আলম মোল্লা এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আতিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি এই অভিযানের গুরুত্ব ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

মন্ত্রীর এই হঠাৎ তদন্ত স্বাস্থ্যসেবা খাতে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি সক্রিয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি সরকারের প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে যে, জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় কোনো কম্প্রোমাইজ করা হবে না এবং দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।