বরগুনায় শাবল দিয়ে পিটিয়ে গৃহবধূ হত্যা, স্বামী পুলিশি হেফাজতে
বরগুনায় শাবল দিয়ে গৃহবধূ হত্যা, স্বামী হেফাজতে

বরগুনায় শাবল দিয়ে পিটিয়ে গৃহবধূ হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা

বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নে এক গৃহবধূকে শাবল দিয়ে পিটিয়ে হত্যার নির্মম ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে ১০ নম্বর নলটোনা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আগাপদ্মা দিল মাহমুদ এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত গৃহবধূ আলম তাজ (৪৪) ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাওলাদারের স্ত্রী।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় আলম তাজ তাঁর নিজ বাড়িতে একা ছিলেন। অজ্ঞাত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা ঘরে প্রবেশ করে লোহার তৈরি শাবল দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে। বিশেষ করে মুখমণ্ডল থেঁতলে দেওয়া হয় এ আঘাতে, যা ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু ঘটায়। পরে স্থানীয় লোকজন টের পেয়ে স্বজন ও পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

পুলিশের তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল আলিম জানান, এ ঘটনায় গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিহত নারীর স্বামী আবুল হাওলাদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বরগুনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সালাহ্উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করেছেন।

অস্ত্র জব্দ ও তদন্তের অগ্রগতি

পুলিশ জানিয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তারা কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে ধারালো নয়, এমন একটি লোহার তৈরি অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে উপর্যুপরি আঘাত করে মুখমণ্ডল থেঁতলে গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত নারীর ছেলেরা বরগুনা শহরে ব্যবসা করেন এবং পরিবারটির সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এমনকি ওই নারীর সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকারও অক্ষত পাওয়া গেছে।

পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও শোক

নিহত আলম তাজের মা ছায়াতন বেগম বলেন, ‘আমি মেয়ের বাড়িতে থাকি না। কী কারণে কী হয়েছে আমি তা কিছুই জানি না। জামাইয়ের অসুস্থতার কথা জানিয়ে আমাকে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু এসে দেখি আমার মেয়েকে কারা যেন মেরে ফেলেছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা নাঈম হোসেন জানান, ইফতারের পর তিনি ঘটনাস্থলে এসে আলম তাজের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। চম্পা নামে এক স্বজন বলেন, প্রথমে তিনি শুনেছেন ওই বাড়িতে আগুন লেগেছে, পরে আশপাশের মানুষ এসে ঘরের বারান্দায় মরদেহ দেখতে পান।

পুলিশ এখন তদন্ত জোরদার করেছে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ ও দোষীদের শনাক্ত করতে কাজ করছে। এলাকায় এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে স্থানীয়রা সোচ্চার হচ্ছেন।