ঢামেক নার্সের আত্মহত্যা: চিরকুটে স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগ, পুলিশ তদন্তে
ঢামেক নার্সের আত্মহত্যা: চিরকুটে নির্যাতনের অভিযোগ

ঢামেক নার্স নাহিদা আক্তারের মর্মান্তিক মৃত্যু: চিরকুটে স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগ

রাজধানীর চকবাজার থানার চাঁনখারপুল এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের নার্স নাহিদা আক্তার ওরফে ববির (২৯) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ তাকে অচেতন অবস্থায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করে।

পুলিশের বর্ণনা ও তদন্তের অগ্রগতি

চকবাজার থানার এসআই মো. কাউছার জানান, রাত ১১টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ভাড়া বাসার দরজা ভেঙে নাহিদাকে উদ্ধার করে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে রাত পৌনে ২টার দিকে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, "পুরো বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" নাহিদা তার স্বামী ইলিয়াস হোসেনের সঙ্গে ওই বাসায় বসবাস করতেন, যিনি পেশায় ব্যবসায়ী। নাহিদার বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদরে।

স্বজনদের অভিযোগ: দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ ও নির্যাতন

নাহিদার ফুফাতো ভাই ফরহাদ রহমান দাবি করেন, নাহিদা ও ইলিয়াসের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ইলিয়াস নাহিদাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। গত বছরের জানুয়ারিতে ইলিয়াসের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিলেন নাহিদা, যাতে গ্রেফতার হয়ে ইলিয়াস কিছুদিন কারাগারেও ছিলেন। পরে কারাগার থেকে বের হওয়ার পর তাদের মধ্যে আপস-মীমাংসা হয় বলে জানা গেছে।

ফরহাদ রহমান আরও বলেন, মৃত্যুর আগে নাহিদা একটি চিরকুট লিখে গেছেন, যেখানে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেছেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নাহিদা ও ইলিয়াস দুজনেই বাসায় আসেন এবং তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে ইলিয়াস বাসা থেকে চলে যান বলে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে শোনা যায়। ঘটনার পর থেকে ইলিয়াসের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। স্বজনরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

সম্প্রদায় ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

এ ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে নারী নির্যাতন ও দাম্পত্য সমস্যার প্রেক্ষাপটে। পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে বলে জানা গেছে। নাহিদার মৃত্যু স্বাস্থ্য সেবা খাতের একজন কর্মীর ট্র্যাজেডি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যা সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলো উন্মোচন করছে।