ধামরাইয়ে কাভার্ডভ্যানের চাপায় পুলিশ কনস্টেবল ও বাইসাইকেল চালক নিহত
ঢাকার ধামরাই উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশের এক সদস্যসহ দুজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকালে কালামপুর-সাটুরিয়া আঞ্চলিক সড়কের বাটুলিয়া এলাকায় সিমেন্টবোঝাই একটি কাভার্ডভ্যানের চাপায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন পুলিশ কনস্টেবল তারেক হোসেন মল্লিক (৩৭) ও বাইসাইকেল চালক আব্দুল কুদ্দুস (৬৫)।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে কর্মরত কনস্টেবল তারেক হোসেন মোটরসাইকেল চালিয়ে ঢাকা থেকে ধামরাইয়ের রাজাপুর গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন। বাটুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে তার মোটরসাইকেলের সঙ্গে আব্দুল কুদ্দুসের বাইসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ফলে উভয়ই সড়কে ছিটকে পড়েন, এবং ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীতমুখী একটি সিমেন্টবোঝাই কাভার্ডভ্যান তাদের চাপা দেয়।
এতে ঘটনাস্থলেই পুলিশ কনস্টেবল তারেক হোসেন নিহত হন। গুরুতর আহত আব্দুল কুদ্দুসকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল থেকে উভয়ের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
পুলিশের ব্যবস্থা ও তদন্ত
ধামরাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করে এবং চালক শাহীন হাওলাদার (৩৫) কে আটক করে। ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজিত কুমার মৃধা জানান, 'কাভার্ডভ্যানের চাপায় ঘটনাস্থলেই পুলিশ সদস্য নিহত হন। সাইকেলচালককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তিনিও মারা যান। কাভার্ডভ্যান জব্দসহ চালককে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।'
নিহত পুলিশ কনস্টেবল তারেক হোসেন মল্লিক ধামরাই উপজেলার চৌহাট ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের সামছুল হক মল্লিকের ছেলে। অন্যদিকে, আব্দুল কুদ্দুস একই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের সিংশ্রী গ্রামের মৃত সাইদুর রহমানের সন্তান। স্থানীয় বাসিন্দারা এ দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনা ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বকে আবারও উন্মোচিত করেছে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
