স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ জনবল নিয়োগের ঘোষণা, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় সংস্কার
স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ জনবল নিয়োগ, হাসপাতাল সংস্কার

স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ জনবল নিয়োগের ঘোষণা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছেন যে, স্বাস্থ্য খাতে ধাপে ধাপে প্রায় এক লাখ জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।

চিকিৎসক ও কর্মচারী ঘাটতি পূরণ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জনসংখ্যার তুলনায় দেশে এখনো চিকিৎসকের সংখ্যা কম। তবে প্রতিবছর নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। মাত্র সাত দিন আগে নতুন অনেক চিকিৎসক যোগদান করেছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতেও চিকিৎসক নিয়োগ অব্যাহত থাকবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, হাসপাতালগুলোতে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতি পূরণে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হবে এবং কিছু ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশে নার্স ও টেকনিশিয়ানের সংখ্যাও তুলনামূলক কম বলে তিনি জানান।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ওষুধ নিরাপত্তা

মন্ত্রী বলেন, কোথাও কোথাও ময়লা-আবর্জনা ও ব্যবহৃত রক্তাক্ত কাপড় সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও অপসারণ করা হচ্ছে না। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও সঠিকভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, সরকারি ওষুধে বিশেষ চিহ্ন দেওয়া হবে, যাতে সেগুলো বাইরে বিক্রি হলে সহজে শনাক্ত করা যায়। আশপাশের কোনো ফার্মেসিতে এমন ওষুধ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কর্মপরিবেশ

হাসপাতালে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রাজনীতি সবাই করতে পারে, আমিও করি। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে রাজনীতি কোনোভাবেই প্রভাব ফেলতে পারবে না।’ এই বক্তব্যে তিনি স্বাস্থ্য খাতে পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের সহযোগিতা দরকার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন, যা স্বাস্থ্য খাতে গুণগত পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন।