চাঁদপুরে সিকিউরিটি গার্ডের আত্মহত্যা: পারিবারিক কলহের জেরে মানসিক হতাশা
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় একটি ভাড়া বাসা থেকে সিকিউরিটি গার্ড তারেক রহমানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ছেংগারচর পৌরসভার বালুরচর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত তারেক রহমানের বয়স ছিল ৩০ বছর। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার উত্তর উপাধি গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পেশাগত জীবন ও পারিবারিক পরিস্থিতি
তারেক রহমান ছেংগারচর বাজারের আইএফআইসি ব্যাংকে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, তারেক রহমানের স্ত্রী নিপা আক্তারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক মান-অভিমান ও কলহ চলছিল। এই কলহের জেরে নিপা আক্তার বাপের বাড়িতে চলে যান, যা তারেক রহমানের মানসিক অবস্থাকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যায়।
স্বজনরা দাবি করেন, পারিবারিক অশান্তির কারণে তারেক রহমান গভীর মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময় আত্মহত্যার হুমকিও দিতেন বলে পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রকাশ পেয়েছে। এই মানসিক চাপ ও হতাশাই তাকে চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার বিবরণ ও পুলিশি তদন্ত
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিজ ভাড়া বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে তারেক রহমান আত্মহত্যা করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। মতলব উত্তর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানান, প্রাথমিকভাবে এই ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে ধরা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যু মামলা করা হবে এবং তদন্তের মাধ্যমে সত্যিকার কারণ বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
এই ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। স্থানীয়রা তারেক রহমানকে শান্তিপ্রিয় ও কর্মঠ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পারিবারিক কলহ ও মানসিক স্বাস্থ্য সংকট কীভাবে একজন যুবকের জীবন কেড়ে নিতে পারে, তা এই ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত জোরদার করেছে এবং পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।



