উত্তরার ফ্ল্যাটে গৃহকর্ত্রী হত্যা: দারোয়ান ও ভাড়াটিয়াসহ দুইজন গ্রেফতার
রাজধানীর উত্তরায় একটি ফ্ল্যাটে ডাকাতি চালিয়ে গৃহকর্ত্রীকে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনায় ওই বাড়ির দারোয়ান ও চতুর্থ তলার এক ভাড়াটিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার দুপুরে তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরিচয়
গ্রেফতারকৃত দুই আসামি হলেন নূরে আলম বাঘ (৪৭) এবং মো. রাসেল মাতবর ওরফে জনি (২৫)। নূরে আলম বাঘ ওই বাড়ির দারোয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, অন্যদিকে রাসেল মাতবর একই বাড়ির চতুর্থ তলার একজন ভাড়াটিয়া। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, এই লুটপাট ও হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিল, যাদের মধ্যে বাকিরা এই দুই আসামির সহযোগী।
একজন আসামি এখনো পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের কাছ থেকে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
গত সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে ডিএমপি তুরাগ থানাধীন উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর রোডের ১৫নং বাড়িতে এই ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঘটনাস্থলে গৃহকর্ত্রী রেজিনা মমতাজ (৬৩) কে মুখে স্কচটেপ ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হত্যাকাণ্ডে গৃহকর্ত্রীর মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা ঘটনার নৃশংসতা আরও বৃদ্ধি করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিক্রিয়া
মায়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়ে ভুক্তভোগীর ছেলে রাইসুল আলম বলেন, "আমি আমার মায়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।" তার এই বক্তব্য ঘটনাটির প্রতি সামাজিক উদ্বেগ ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে।
পুলিশ এই মামলায় তদন্ত জোরদার করেছে এবং পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। উত্তরা এলাকায় এই ধরনের অপরাধ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, যারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানাচ্ছেন।



