খতনা করতে গিয়ে শিশুর পুরুষাঙ্গ কাটার অভিযোগ: আদালতের নির্দেশে কারাফটে জিজ্ঞাসাবাদ
খতনায় শিশুর পুরুষাঙ্গ কাটার অভিযোগ: আদালতের নির্দেশ

খতনা করতে গিয়ে শিশুর পুরুষাঙ্গ কাটার অভিযোগ: আদালতের নির্দেশে কারাফটে জিজ্ঞাসাবাদ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি মর্মান্তিক ঘটনায় খতনা করতে গিয়ে এক শিশুর পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে করা মামলায় ওষুধের দোকানি খলিলুর রহমানের কারাফটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এই আদেশ জারি করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

আদালতের শুনানি ও সিদ্ধান্ত

মামলার একমাত্র আসামি খলিলুর রহমানকে আদালতে হাজির করে তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি আসামির বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন করেন, যাতে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। বিপরীতে আসামির আইনজীবী জামিনের আবেদন করে, যুক্তি দেখান যে তার ক্লায়েন্ট নির্দোষ। শুনানি শেষে আদালত উভয় আবেদনই নাকচ করে দেন এবং একদিনের জন্য কারাফটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। এই সিদ্ধান্তে আদালত বলেছেন, তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি, কিন্তু এখনই রিমান্ড বা জামিন মঞ্জুর করা যাবে না।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

গত ২২ মার্চ নয় বছর বয়সী এক শিশুর খতনা করানোর জন্য তার স্বজনেরা তাকে খলিলুর রহমানের কাছে নিয়ে যান। খলিলুর রহমান এলাকায় ‘খলিল ডাক্তার’ নামে পরিচিত একজন ওষুধের দোকানি। স্বজনেরা অভিযোগ করেন, খতনার সময় খলিল শিশুটির পুরুষাঙ্গের একটি অংশ কেটে ফেলেন, যা একটি মারাত্মক চিকিৎসা ত্রুটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ঘটনায় শিশুটির নানা গত ১০ এপ্রিল মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত মনোযোগ আকর্ষণ করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা দায়েরের পর, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় ঢাকা উদ্যান এলাকা থেকে খলিলুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে পরদিন কারাগারে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই রেজাউল করিম আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন, কিন্তু আদালত আজকের শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

শিশুর স্বাস্থ্য অবস্থা ও চিকিৎসা

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২২ মার্চ সকালে শিশুটিকে খতনা করানোর জন্য ঢাকা উদ্যান এলাকার ‘খলিল মেডিকেল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হয়। খতনার সময় চিকিৎসকের মারাত্মক অবহেলা ও ত্রুটির কারণে শিশুটির পুরুষাঙ্গের সামনের অংশে গুরুতর জখম হয়। অধিক রক্তক্ষরণের ফলে শিশুটির জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে, এবং তাকে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়, এবং তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল বলে জানা গেছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

এই ঘটনা শিশু স্বাস্থ্য ও নিরাপদ চিকিৎসা সেবার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খতনার মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়াগুলো অবশ্যই প্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত, যাতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি করছেন। আদালতের নির্দেশে এখন তদন্ত ত্বরান্বিত হচ্ছে, এবং আসামির জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নতুন তথ্য উঠে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।