শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে শুক্রবার রাতে এক রোগীর মৃত্যুর পর হামলায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় এক চিকিৎসককে ঢাকায় এয়ারলিফট করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
শুক্রবার রাত সাড়ে দশটায় বুকে ব্যথা নিয়ে শরীয়তপুর সদরের উত্তর বিলাসখানের লাল মিয়া কাজী (৫০) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন। শনিবার ভোর ১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে তার আত্মীয়রা উত্তেজিত হয়ে জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালায় এবং ডিউটিতে থাকা কর্মীদের ওপর হামলা করে, হাসপাতালের সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি করে।
আহত ও ক্ষয়ক্ষতি
হামলায় ডিউটিতে থাকা চিকিৎসক ডা. মো. নাসির ইসলাম, আনসার সদস্য সোহেল সরদার, কর্মী কামরুল, আজিজুল হক ও কাওসার গুরুতর আহত হন। ডা. নাসির ইসলামের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়া হয়। হামলার ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত আল আমিনকে আটক করে।
প্রতিক্রিয়া
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিতু আক্তার বলেন, রোগীর মৃত্যুর পর হঠাৎ করে সহিংসতা শুরু হয়, যাতে গুরুতর আহত হন একজন চিকিৎসকসহ কয়েকজন। পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম হাসপাতালের কর্মীদের ওপর হামলাকে গভীরভাবে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা গ্রহণযোগ্য নয় এবং যারা জড়িত, তারা পরিচিতি নির্বিশেষে আইনি পরিণতির মুখোমুখি হবেন।



