ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাবার ছাড়াও যে কারণগুলো গুরুত্বপূর্ণ
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাবার ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ কারণ

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাবার ছাড়াও যে কারণগুলো গুরুত্বপূর্ণ

ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর অনেকেই মিষ্টি, ভাজাভুজি ও ভাত-রুটি ছেড়ে দেন বা প্রয়োজনের চেয়ে কম খান। বাইরের খাবার এড়িয়ে চলেন। কিন্তু তারপরও রক্তে সুগারের মাত্রা ওঠানামা করে, কখনো বাড়ে আবার কখনো কমে। এর পেছনে শুধু খাওয়াদাওয়া নয়, আরও বেশ কিছু কারণ দায়ী।

কম ঘুম: সুগার বেড়ে যাওয়ার বড় কারণ

অনিদ্রা বা কম ঘুম রক্তে শর্করা বাড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ। গবেষকরা ডিজিটাল আসক্তি ও পেশাগত অনিয়মকে এর জন্য দায়ী করেন। দিনে ৬ ঘণ্টার কম ঘুম হলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়, খাওয়াদাওয়ায় নিয়ম মেনেও লাভ হয় না। ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন অন্যান্য হরমোনের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে; এর ক্ষরণ কমলে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ে এবং শর্করা ঠিকমতো শোষিত হয় না। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে টানা ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি।

মানসিক চাপ: সুগার বৃদ্ধির অন্যতম হাতিয়ার

দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ যদি সীমাহীন হয়ে পড়ে, তা হলে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোলের মাত্রা বেড়ে যায়। এই হরমোন ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়তে থাকে। দিনভর মানসিক চাপে ভোগা ব্যক্তিদের সুগার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা: বিপজ্জনক পরিণতি

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে শুধু মেপে খাওয়াই নয়, সময়ে সময়ে খাবার খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকরা সতর্ক করেন, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা বা উপবাস করলে রক্তে শর্করার মাত্রা ভয়াবহভাবে বেড়ে যেতে পারে। খালি পেটে লিভার বেশি গ্লুকোজ ক্ষরণ করে, কারণ গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি তৈরি হয়, যা শর্করা বাড়ায়।

সুতরাং, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো ও নিয়মিত খাবার খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণগুলো জানলে রোগীরা আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক ব্যবস্থা নিতে পারবেন।