অনেকের ধারণা, কোলেস্টেরল শুধু মোটা মানুষদেরই হয়। কিন্তু এই ধারণা একেবারেই ভুল। ওজন কম বা রোগা হওয়া সত্ত্বেও রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরল থাকতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, এটি শুধু শরীরের ওজনের ওপর নির্ভর করে না; বরং লিভারের কার্যকারিতা, জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং জীবনযাত্রার ওপর বেশি নির্ভরশীল। আপনার শরীরে প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ কোলেস্টেরল লিভার নিজে থেকে তৈরি করে, যা খাদ্যাভ্যাস বা ওজনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়।
রোগাদের কোলেস্টেরল হওয়ার কারণ
রোগা ব্যক্তিরাও নানা কারণে কোলেস্টেরলে আক্রান্ত হতে পারেন। নিচে কয়েকটি প্রধান কারণ উল্লেখ করা হলো:
১. ফ্যামিলিয়াল হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া
এটি একটি জিনগত রোগ। এতে আক্রান্ত হলে লিভার থেকে বেশি কোলেস্টেরল তৈরি হয় এবং খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) শরীরে কম ধ্বংস হয়। ফলে রোগা হলেও শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকে।
২. অন্যান্য রোগ ও অভ্যাস
যারা ডায়াবেটিস, থাইরয়েড কিংবা ফ্যাটি লিভারের মতো অসুখে ভুগছেন, তাদের কোলেস্টেরলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। এছাড়া যারা মদপান বা ধূমপান করেন, তারা রোগা হলেও কোলেস্টেরলের শিকার হতে পারেন।
৩. অলস জীবনযাত্রা
রোগা হলেও অনেক মানুষ অলস প্রকৃতির হন এবং শরীরচর্চা করেন না। শরীরচর্চা করলে ভালো কোলেস্টেরলের (এইচডিএল) মাত্রা বাড়ে এবং খারাপ কোলেস্টেরলের (এলডিএল) মাত্রা কমে। শরীরচর্চা না করলে স্বাভাবিকভাবেই এলডিএলের মাত্রা বেড়ে যায়।
৪. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
রোগা অনেক মানুষই অস্বাস্থ্যকর খাবার খান। প্রক্রিয়াজাত খাবার, প্যাকেটজাত খাবার, তেলেভাজা—এসব নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরল শরীরে বাসা বাঁধবেই।
সুতরাং, ওজন কম থাকলেই যে কোলেস্টেরলের ঝুঁকি নেই, তা নয়। সুস্থ থাকতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।



