গর্ভাবস্থায় দাঁতের চিকিৎসা: নিরাপদ সময়, ওষুধ ও সতর্কতা
গর্ভাবস্থায় দাঁতের চিকিৎসা: নিরাপদ সময় ও ওষুধ

গর্ভাবস্থায় দাঁতের চিকিৎসার গুরুত্ব

গর্ভাবস্থায় দাঁতের চিকিৎসার সঠিক সময় ও ওষুধ নির্বাচন অতি গুরুত্বপূর্ণ। হরমোন ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে এই সময়ে মাড়ি ফুলে যাওয়া বা দাঁতক্ষয়ের মতো সমস্যা প্রায়ই দেখা দেয়। প্রচলিত ধারণা, গর্ভাবস্থায় দাঁতের চিকিৎসা করা বা ওষুধ খাওয়া যায় না—এটি অনেকাংশে ভুল; বরং এই সময়ে দাঁতের সংক্রমণ পুষে রাখলে মা ও গর্ভস্থ শিশুর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

গর্ভাবস্থার তিন পর্যায়ে চিকিৎসা

গর্ভাবস্থার ৯ মাসকে তিন ভাগ করে দাঁতের চিকিৎসাপ্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়।

প্রথম তিন মাস: এই সময়ে শিশুর গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তৈরি হয়। এটি খুব জরুরি অবস্থা। এ সময় তীব্র সংক্রমণ বা অসহ্য ব্যথা ছাড়া সব ধরনের দাঁতের চিকিৎসা বা ওষুধ এড়িয়ে চলা উচিত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দ্বিতীয় তিন মাস: গর্ভাবস্থার চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ মাস সময়কে দাঁতের চিকিৎসার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ সময় ধরা হয়। এই সময়ে দাঁত ফিলিং, রুট ক্যানেল, স্কেলিং বা খুব প্রয়োজনে দাঁত তোলা যায়।

শেষ তিন মাস: এই সময়ে দীর্ঘক্ষণ ‘ডেন্টাল চেয়ারে’ সোজা হয়ে শুয়ে থাকা গর্ভবতী মায়ের জন্য কষ্টদায়ক হতে পারে, যা রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে। তাই এই সময়ে কেবল জরুরি ব্যথানাশক বা সাময়িক চিকিৎসা দিয়ে মূল চিকিৎসা প্রসব–পরবর্তী সময়ের জন্য স্থগিত রাখতে হয়।

চিকিৎসার প্রক্রিয়া ও সতর্কতা

ডেন্টাল এক্স-রে: তীব্র সংক্রমণ শনাক্ত করতে এক্স-রে দরকার হলে অবশ্যই গর্ভবতীর পেটে এবং থাইরয়েড গ্রন্থিতে বিশেষ ‘লিড অ্যাপ্রোন’ বা সুরক্ষামূলক কভার ব্যবহার করতে হবে।

রুট ক্যানেল ও ফিলিং: দাঁতের ভেতরের সংক্রমণ দূর করতে রুট ক্যানেল এবং মার্কারিমুক্ত কম্পোজিট ফিলিং করা নিরাপদ।

স্কেলিং ও মাড়ির চিকিৎসা: গর্ভাবস্থায় মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বা ‘প্রেগন্যান্সি জিঞ্জিভাইটিস’ প্রতিরোধে স্কেলিং করা জরুরি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লোকাল অ্যানেসথেসিয়া: দাঁত অবশ করার জন্য ব্যবহৃত বিশেষ কিছু ইনজেকশন গর্ভাবস্থায় নিরাপদ বলে প্রমাণিত। সেগুলো ব্যবহার করতে হবে।

ওষুধ সেবনে সতর্কতা

গর্ভাবস্থায় ওষুধ সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ বাধ্যতামূলক। ব্যথানাশক হিসেবে প্যারাসিটামল তুলনামূলক নিরাপদ। আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন বা ডাইক্লোফেনাক–জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না। এগুলো শিশুর হৃদযন্ত্র ও রক্তসঞ্চালনে ক্ষতি এবং মায়েরও জটিলতা তৈরি করতে পারে। সংক্রমণ থাকলে পেনিসিলিন, অ্যামোক্সিসিলিন বা ক্লিনডামাইসিন গর্ভস্থ শিশুর জন্য নিরাপদ। টেট্রাসাইক্লিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া যাবে না। এটি গর্ভস্থ শিশুর হাড় গঠনে বাধা দেয় এবং শিশুর দাঁতের রং স্থায়ীভাবে কালো বা হলুদ করে ফেলে।

গর্ভাবস্থায় দাঁতের যত্নে করণীয়

বমির কারণে মুখে যে অ্যাসিড তৈরি হয়, তা দাঁতের অ্যানামেল ক্ষয় করে। তাই বমি করার পর পানি দিয়ে ভালো করে কুলকুচি করতে হবে। গর্ভাবস্থায় মিষ্টি বা শর্করা–জাতীয় খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ে, যা ক্যাভিটি বা দাঁতের ক্ষয় তৈরি করে। তাই প্রতিবার খাওয়ার পর ব্রাশ বা কুলকুচির অভ্যাস করুন।

ডা. মো. আসাফুজ্জোহা, রাজ ডেন্টাল সেন্টার, কলাবাগান, ঢাকা