জেব্রাফিশের চোখের পাতা না থাকায় আলো তাদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। তবে সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই মাছের ঘুমের ধরণ মানুষের মতোই জটিল। জুন মাসে নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জেব্রাফিশের চোখের নড়াচড়া অনুসরণ করে ঘুমের চারটি ভিন্ন উপধাপ শনাক্ত করেছেন।
গবেষণার পদ্ধতি ও ফলাফল
গবেষণার জন্য জেব্রাফিশ বেছে নেওয়া হয়েছিল কারণ এদের শরীর জীবনের প্রথম তিন সপ্তাহ স্বচ্ছ থাকে। ফলে বিজ্ঞানীরা ক্যালসিয়াম ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরাসরি এদের মস্তিষ্কের ভেতর দেখতে পারেন। গবেষণার প্রধান লেখক ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের পিএইচডি শিক্ষার্থী ভিকাশ চৌধুরী নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাধীনভাবে চলাফেরা করা কোনো প্রাণীর পুরো মস্তিষ্কের কার্যকলাপ আমরা রেকর্ড করতে পেরেছি।’
ঘুমের চারটি উপধাপ
গবেষকেরা জেব্রাফিশের ঘুমের চারটি উপধাপ শনাক্ত করেছেন। এর মধ্যে তিনটি ঘটে রাতে এবং একটি দিনে। রাতের তিনটি ধাপ পার হতে সময় লাগে প্রায় ১০ ঘণ্টা। প্রথম ধাপে সবচেয়ে গভীর ঘুম হয়, এ সময় মাছের চোখ একদৃষ্টে স্থির থাকে। দ্বিতীয় ধাপে হালকা ঘুম হয়, এ সময় চোখ এক দিকে কেঁপে ওঠে ও পরে মাঝখানে ফিরে আসে। তৃতীয় ধাপে সকাল হওয়ার আগে দুটি চোখ একই দিকে ঘুরে যায়। চতুর্থ ধাপটি দিনের বেলায় অল্প সময়ের (৫-১০ মিনিট) জন্য ঘটে, এ সময় চোখ এদিক-সেদিক নড়ে এবং মাছের মস্তিষ্কের অনেক কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে যায়।
গবেষণার গুরুত্ব
গবেষণার সহলেখক ও ম্যাক্স প্ল্যাংক ইন্সটিটিউট ফর বায়োলজিক্যাল সাইবারনেটিকসের স্নায়ুবিজ্ঞানী মেংবো লি জানিয়েছেন, ‘এদের ঘুমের গঠনেও জটিলতা রয়েছে।’ জেব্রাফিশের মস্তিষ্ক মানুষের তুলনায় ছোট ও সরল হলেও ঘুমের মৌলিক প্রক্রিয়া বোঝার জন্য এটি কার্যকর। মানুষ ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী অনেক জিন, স্নায়ুকোষ এবং ওষুধ মাছের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রভাব ফেলে।
স্বয়ংক্রিয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা
গবেষণায় বিজ্ঞানীরা একটি স্বয়ংক্রিয় মাইক্রোস্কোপ ও ক্যামেরা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছেন, যা ১০৫টি মাছকে অনুসরণ করতে সক্ষম। এই যন্ত্রটি তৈরি করেছেন গবেষণার আরেক সহলেখক ও ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের স্নায়ুবিজ্ঞানী ড্রু রবসন। মাছগুলো সাঁতার কাটা, খাবার শিকার বা ঘুমানোর সময় যন্ত্রটি নিজে নিজে তাদের অনুসরণ করে।
প্রায় সব প্রাণীই জীবনের বড় একটি অংশ ঘুমিয়ে কাটায়। কিন্তু কেন প্রাণীরা ঘুমায় এবং কোন প্রক্রিয়ায় ঘুম নিয়ন্ত্রিত হয়, সে সম্পর্কে এখনো গবেষকদের অনেক কিছু অজানা। এই গবেষণা হয়ত প্রাণীর ঘুম নিয়ে আরও জানতে সহায়তা করবে।



