স্বাধীনতা দিবসে পাবনায় বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন
মহান স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্যপূর্ণ দিনে পাবনার বেড়া উপজেলায় একটি অনন্য মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দয়ালনগর বন্ধুসভার আয়োজনে এবং বিকে ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা এলাকার অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে এসেছে।
ক্যাম্পের বিস্তারিত ও সেবার পরিধি
২৬ মার্চ, স্বাধীনতা দিবসে পাবনার বেড়া উপজেলার বাঁধেরহাট এলাকায়, স্কিলস একাডেমি বিডি পাবনা প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই চক্ষুচিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়। ক্যাম্পে রওশান আরা ছাত্তার চক্ষু হাসপাতালের অভিজ্ঞ চক্ষুবিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে শতাধিক রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রয়োজনীয় রোগীদের জন্য পরবর্তীতে অপারেশনের ব্যবস্থাও করা হবে, যা এই উদ্যোগের টেকসই প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
উদ্বোধন ও আয়োজকদের বক্তব্য
চক্ষুচিকিৎসা ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিকে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম এ বাতেন খান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, 'প্রথম আলো বন্ধুসভার মাধ্যমে এ ধরনের মানবিক কাজ আমরা অব্যাহত রাখব। শুধু চক্ষুচিকিৎসাসেবাই নয়, সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করে যাবে বিকে ফাউন্ডেশন।'
দয়ালনগর বন্ধুসভার উপদেষ্টা এবং বাহারুন্নেছা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু সায়েম প্রামাণিক বলেন, 'চোখ মানুষের অমূল্য সম্পদ। মহান স্বাধীনতা দিবসে চক্ষুচিকিৎসাসেবা দিতে পেরে আমরা গর্বিত। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।'
স্থানীয় জনগণের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
স্থানীয় জনগণ এই মানবিক কার্যক্রমকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং আয়োজকদের প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, স্বাধীনতা দিবসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে এই সেবামূলক কার্যক্রম মানুষের মধ্যে নতুন আশা ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন দয়ালনগর বন্ধুসভার সদস্যসচিব আনিছুর রহমান, সদস্য সাইদুর রহমান খান, জুলহাস উদ্দিন, কাজী ইব্রাহিম ও শাহীনসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যা সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এই উদ্যোগটি শুধু চিকিৎসাসেবাই নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা স্বাধীনতা দিবসের চেতনাকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।



