আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দয়ালনগরে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও জাতীয় শহীদ দিবসের প্রাক্কালে একটি অনন্য মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দয়ালনগর বন্ধুসভা। সংগঠনটি পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার আমিনপুর দয়ালনগর বাহারুন্নেছা পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করে, যা সমাজের পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবার দুয়ার উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
ক্যাম্পের সময় ও স্থান
এই বিশেষ চিকিৎসা শিবিরটি ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বেলা ৩টা পর্যন্ত সক্রিয় ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য সুবিধাজনক এই সময়সূচিতে বহু মানুষ তাদের চোখের সমস্যা নিয়ে উপস্থিত হন এবং প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করেন।
সেবার পরিসংখ্যান ও সহযোগিতা
বিকে ফাউন্ডেশনের আর্থিক ও লজিস্টিক্যাল সহযোগিতায় এই ক্যাম্পে মোট ১২৫ জন মানুষ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা পান। রওশনআরা-সাত্তার চক্ষু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মারুফ হাসানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সমস্ত চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যা সেবার গুণমান নিশ্চিত করে।
উপকারভোগীদের প্রতিক্রিয়া
একজন উপকারভোগী তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যা নিয়ে ভুগছিলাম, কিন্তু কাজের ব্যস্ততা এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ডাক্তার দেখানো সম্ভব হচ্ছিল না। এই ক্যাম্পে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসা, চোখের পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়ে আমি সত্যিই অনেক উপকৃত হয়েছি।'
অন্য একজন বয়স্ক ব্যক্তি যোগ করেন, 'বয়সের কারণে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাচ্ছিল এবং নানা রকম সমস্যা হচ্ছিল। টাকার অভাবে চিকিৎসা করানো আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। দয়ালনগর বন্ধুসভার এই উদ্যোগ আমাকে নতুন আশা দিয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।'
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও উপস্থিতি
এই চিকিৎসা ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিকে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম এ বাতেন খান, যিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই কর্মসূচির শুভ সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দয়ালনগর বন্ধুসভার আহবায়ক আকরাম হোসেন খান, সদস্যসচিব আনিছুর রহমান, সদস্য সাইদুর রহমান খান এবং আবদুর রাজ্জাকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সম্প্রদায়িক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই উদ্যোগটি কেবল চিকিৎসাসেবাই প্রদান করেনি, বরং এটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দয়ালনগর বন্ধুসভার সদস্যরা জানিয়েছেন যে তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, বিশেষ করে জাতীয় দিবসগুলোতে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
এই ক্যাম্পের সফলতা দেখিয়ে দেয় যে স্থানীয় সংগঠন এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা কীভাবে বৃহত্তর সামাজিক কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে। পাবনার বেড়া উপজেলার বাসিন্দারা এখন আরও স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে উঠছেন এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ উদ্যোগের জন্য উৎসাহিত হচ্ছেন।
